শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
বই পড়া, যা মনের বিকাশে অপরিহার্য, তা আজকের ডিজিটাল যুগে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। নগদ লাভের আশা না করেও বই পড়া যে কীভাবে ব্যক্তি ও জাতির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা আমাদের ভালোভাবে উপলব্ধি করা উচিত। সাহিত্যিক বই, যা জীবনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে, মনের গভীরে ছাপ ফেলে এবং মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায়।
লাইব্রেরি ছাড়া বই পড়া অনেকাংশেই অসম্পূর্ণ। যেমন আমাদের শরীরের সুস্থতার জন্য হাসপাতাল প্রয়োজন, তেমনই মনের বিকাশের জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল লাইব্রেরি। লাইব্রেরিতে মানুষ স্বেচ্ছায়, নিজের আনন্দের জন্য বই পড়তে পারে। এই আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত সুশিক্ষিত হওয়া সম্ভব। কিন্তু যদি পড়াশোনা না করা হয়, শুধু মূর্খতাই নয়, অজানাকে জানার চেষ্টা না করা, প্রশ্ন না করার প্রবণতাই প্রকৃত মূর্খতার লক্ষণ।
আজকের দিনে উন্মুক্ত পাঠাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি এমন একটি মনোরম পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সবাই বই পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবকের ছোট সন্তান রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ। সন্তানদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করতে হলে প্রথমে বাবা-মাকে উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ সন্তানরা সবসময় তাদের অভিভাবকদের অনুসরণ করে।
আমরা আজকাল ডিভাইস ব্যবহারে এতটাই মগ্ন যে, বই পড়ার আনন্দ প্রায় ভুলেই গেছি। এটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ সংকেত। মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের প্রতি আসক্তি আমাদের শিশুদের মানবিকতা ও জ্ঞানবোধকে ক্রমশ লোপ করছে। তাই এখনই আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। ঘুমানোর আগে সন্তানকে গল্পের বই পড়ে শোনান, নিজেও বই পড়ুন। এতে আপনি নিজেও বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হবেন এবং সন্তানরাও বই পড়ার গুরুত্ব বুঝবে।
বই আমাদের নীরব বন্ধু। এটি এমন এক সঙ্গী, যার সঙ্গে একাকিত্বেও ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। সন্তানদের বই পড়তে বাধ্য না করে বরং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ জাগিয়ে তুলুন। বাস্তব জ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্যিক বই পড়ার অভ্যাস তাঁদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
উপসংহার: ডিজিটাল যুগে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তির মানসিক বিকাশে নয়, জাতির উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। আসুন, আমরা সবাই মিলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলি এবং তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিই।