বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
দুর্নীতির ছায়া সত্ত্বেও ইউসিবিএলের উল্টো ঘুরে দাঁড়ানো!
অনলাইন ডেস্ক
নতুন ব্যবস্থাপনায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) ফিরে পেয়েছে গ্রাহকদের আস্থা ও আগ্রহ। মাত্র পাঁচ মাসেই তিন লাখের বেশি নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন ব্যাংকটির সঙ্গে। একই সময়ে আমানতের পরিমাণেও এসেছে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আর্থিক সহায়তা ছাড়াই প্রথম প্রজন্মের এই বেসরকারি ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে এর মধ্যেই সাবেক চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পলাতক সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে দুদক তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যানসহ আট পরিচালকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে।
আদালতের নির্দেশে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান ও আরও সাত সাবেক পরিচালকের ২৬টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে থাকা মোট ৫৭ লাখের বেশি শেয়ারের বর্তমান মূল্য ৫৭৬ কোটি টাকার বেশি। এদের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের সাবেক উপদেষ্টা এম এ সবুর, বশির আহমেদ, বজল আহমেদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্সানা জামান।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভলকার্ট ট্রেডিং, লিজেন্ডারি এসেট ম্যানেজমেন্ট, স্পেলেন্ডেড ট্রেডিং, অর্ডেন্ট এসেট ম্যানেজমেন্ট, নাহার মেটালসসহ সাতটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টও জব্দ করা হয়েছে। এসব কোম্পানি সরাসরি সাবেক মন্ত্রী ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ইউসিবিএলের নিয়ন্ত্রণ নেয় সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার। ২০১৮ সালে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি নিজে মন্ত্রী হন এবং স্ত্রী রুকমিলাকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানান। পরিচালনা পর্ষদে ছিল তার ভাই ও স্ত্রী, এমনকি তার ভাইয়ের স্ত্রীরও নাম যুক্ত ছিল।
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যে ১২টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে, ইউসিবিএল তাদের অন্যতম। নতুন পরিচালনা পর্ষদের অধীনে মাত্র ছয় মাসে আমানত বেড়েছে ৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সহায়তা ছাড়াই ব্যাংকটির এডি রেশিও নেমে এসেছে ৮৭.৫ শতাংশে।
৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা ব্যাংকটি নতুন উদ্যোগে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। তবে আদালত ও দুদকের মামলাগুলো নিয়ে ইউসিবিএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে নারাজ।