বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
🔥 মানুষের ঘরের কাজও করছে এখন রোবট! বাংলাদেশে প্রথম রোবট শোরুম চালু 🔥
অনলাইন ডেস্ক
একটা সময় কল্পবিজ্ঞানের গল্পে ছিল—ঘর মুছে দিচ্ছে রোবট, খাবার নিয়ে আসছে মেশিন, আবার কারখানায় মানুষের বদলে কাজ করছে যন্ত্রমানব। কিন্তু এখন এই দৃশ্য চোখের সামনে। বিশ্বে তো বটেই, এবার বাংলাদেশেও গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে ব্যবহারের উপযোগী রোবটের জগতে প্রবেশ করলো দেশীয় প্রতিষ্ঠান।
বিশ্বব্যাপী গৃহস্থালি রোবটের বাজার ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ১ হাজার ১৯৭ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও স্মার্ট হোম প্রযুক্তির প্রসারে এই বাজার ২০২৫ সালের মধ্যে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে।
এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল কম্পিউটারস পিএলসি রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশের প্রথম রোবট ডিসপ্লে সেন্টার চালু করেছে, যেখানে রোবট শুধু দেখা যাবে না—বুঝে-শেখে কিনেও নেওয়া যাবে।
ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের জেনারেল ম্যানেজার জাফর আহমেদ পাটোয়ারী বলেন,
“রোবট এখন আর বিলাসিতা নয়। এটি খরচ কমানো, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং মানুষের পরিশ্রম হ্রাসে কার্যকর সমাধান।”
রোবট সেন্টারে রয়েছে তিনটি মূল ধরণের রোবট:
সেন্টারে ঢুকলেই চোখে পড়ে ছোট ছোট মানবাকৃতির রোবট—যেগুলো ২০–২৫ ইঞ্চি লম্বা। দেখতে যেন হলিউডের ‘ট্রান্সফরমার’।
ড্যাফোডিল ল্যাবের কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম জানান,
এসব রোবট বিভিন্ন বিষয় শেখাতে ব্যবহৃত হয়। সঙ্গে থাকছে AI রোবোটিকস কিট—যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজের হাতে রোবট বানাতে পারবে, প্রোগ্রামিং শিখতে পারবে, সমস্যা সমাধানে দক্ষতা বাড়াতে পারবে।
ঢাকার ফ্ল্যাটে কাজের লোক পাওয়া দুষ্কর?
সেই চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে এসেছে Airrobo T20, P20, PC10 মডেলের রোবট—স্বয়ংক্রিয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার।
এসব রোবট মেঝে বা কার্পেট পরিষ্কার করে নিজেই চার্জিং ডকে চলে যেতে পারে।
অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, দাম শুরু ২৫ হাজার টাকা থেকে।
ড্যাফোডিলের ডিসপ্লে সেন্টারে দেখা গেল কিছু রোবট ঘোরাফেরা করছে যন্ত্রচালিত ভঙ্গিমায়।
এসব রোবট এখন দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবহন করছে।
দাম ৬–১২ লাখ টাকার মধ্যে, ৪০ কেজি পর্যন্ত খাবার বহনে সক্ষম।
এতে রয়েছে ২১ ইঞ্চির এইচডি ডিসপ্লে—যেটি বিজ্ঞাপনও দেখাতে পারে এবং নির্দেশনা দিতে পারে ক্রেতাদের।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল খাতে এখন ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
ডিসপ্লে সেন্টারে থাকা Hans লেজার মার্কিং রোবট দিয়ে যন্ত্রাংশ বা পণ্যে লোগো, বারকোড, সিরিয়াল নাম্বার যুক্ত করা যায় সহজেই।
এই রোবটের দাম ১০ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত।
আরও রয়েছে পিক অ্যান্ড প্লেস রোবট—যা ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, ভুল কমায়, দ্রুত অপারেশন নিশ্চিত করে।
শিপবিল্ডিং, ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রনিকস, ফুড প্রসেসিং, ওষুধ, ই-কমার্স, লজিস্টিকস—সব খাতেই ব্যবহারের সুযোগ আছে।
রোবটগুলো যদিও বিদেশে তৈরি, তবে পরিচালনায় রয়েছে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা।
প্রযুক্তির এই ডিসপ্লে সেন্টার শুধু একটি প্রদর্শনী নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রোবট শিল্পের প্রবেশদ্বার।
রোবট এখন আর শুধু টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন বা বৈশ্বিক প্রযুক্তি সম্মেলনের অংশ নয়—এটি ঢাকার সোবহানবাগেই এসে দাঁড়িয়েছে।
ঘরে, অফিসে, রেস্তোরাঁয় বা কারখানায়—বাংলাদেশ এখন রোবট বিপ্লবের পথে হাঁটছে।