বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
ফুটবল মাঠ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে, নীরব নায়ক আল-ওবেইদ।
অনলাইন ডেস্ক
গাজার দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় ফিলিস্তিনি ফুটবল ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র সুলেইমান আল-ওবেইদ নিহত হয়েছেন। ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জাতীয় দলের তারকাকে ‘ফিলিস্তিনের পেলে’ হিসেবে সম্মানিত করা হতো। ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশন তাকে ‘শহীদ’ ঘোষণা করেছে।
ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ গাজার মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমান অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলায় সুলেইমান আল-ওবেইদ শহীদ হয়েছেন।’
পাঁচ সন্তানের জনক আল-ওবেইদ দীর্ঘ সময় ফিলিস্তিনের ফুটবল ইতিহাসে অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। খেলোয়াড় হিসাবে তিনি ছিলেন জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান ক্রীড়াবিদ, পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের জন্য এক মডেল ব্যক্তিত্ব।
আল-ওবেইদের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল গাজার খাদামাত আল-শাতি ক্লাবে। পরবর্তীতে তিনি পশ্চিম তীরের আল-আমারি ইয়ুথ সেন্টার ও গাজা স্পোর্টস ক্লাবেও খেলেছেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তিনি নিয়মিত ছিলেন।
তার ক্যারিয়ারে শতাধিক গোল করেছেন, যা তাকে ফিলিস্তিনি ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলদাতার স্থান এনে দেয়।
ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যেই ৩২১ জন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন, যার মধ্যে খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, সংগঠক ও বোর্ড সদস্য অন্তর্ভুক্ত।
সুলেইমান আল-ওবেইদের মৃত্যু শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি ফুটবলের জন্য নয়, পুরো ক্রীড়াজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। গোলকিপিং থেকে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত মাতৃভূমির পাশে দাঁড়িয়ে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই নীরব যোদ্ধার গল্প আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে।
একজন ফুটবলার যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার দেশের মানুষের জন্য লড়েছেন, তার গল্প শেষ হলো আগুনের ছাইয়ের মাঝে।