মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন
শুল্ক বাড়ায় মার্কিন ভোক্তাদের জীবনে নতুন বোঝা!
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার প্রভাব পড়বে আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তামা ও বিদেশি পণ্যে এই শুল্ক কার্যকর এবং স্থায়ী হলে চলতি বছর মার্কিন পরিবারগুলো গড়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ৪০০ ডলার খরচ করতে বাধ্য হবে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাম্পের এই শুল্কের কারণে গড় কার্যকর শুল্কহার যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছাবে, যা ১৯৩৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। গবেষকরা বলছেন, এর ফলে স্বল্পমেয়াদে মার্কিন ভোক্তাদের মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে ১.৮ শতাংশ, অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রত্যেক পরিবার গড়ে দুই হাজারের বেশি ডলার বেশি খরচ করবে।
তবে এই বিশ্লেষণে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাব্য প্রভাব ধরা হয়নি, যা হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
শুল্কনীতির কারণে চলতি বছরে বেকারত্বের হার ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মার্কিন অর্থনীতির জিডিপি ০.৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রতিবছর ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে, যার অর্থ আনুমানিক ১১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি।
নির্মাণ ও কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও, উৎপাদন খাতে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়তে পারে পোশাক, টেক্সটাইল ও জুতার বাজারে, যেখানে স্বল্পমেয়াদে দাম ৩৭ থেকে ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দাম কিছুটা কমে ১৮ শতাংশে স্থির হতে পারে।
এছাড়া ধাতু, চামড়া এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দামও স্বল্প মেয়াদে যথাক্রমে ৪৩, ৩৯ এবং ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। মোটরযান, ইলেকট্রনিকস ও রাবার-প্লাস্টিকজাত পণ্যের দামও ১১ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাদ্যপণ্যের মধ্যে দাম বৃদ্ধির চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও নির্দিষ্ট সবজি, ফলমূল ও বাদামের দাম গড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত কফি ও কমলার রসের মতো পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির জরিপে দেখা গেছে, ৮৩ শতাংশ ব্যবসায়িক নেতা মনে করেন, শুল্কনীতির কারণে আগামী ছয় মাসে পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। ৩০০ ব্যবসায়িক নেতা ও করপোরেট নির্বাহীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, শুল্কের কারণে তাদের মুনাফা ইতোমধ্যে সংকুচিত হয়েছে, যদিও ভোক্তাদের ওপর প্রভাব এখনো পুরোপুরি পড়েনি।
বর্তমানে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে শুল্ক। প্রায় সব দেশের পণ্য আমদানিতে তিনি শুল্ক আরোপ করেছেন। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির মন্দা আসতে পারে।