বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন
বৃষ্টিতে সবজির দাম বাড়ছে, ক্রেতারা দিশেহারা!
অনলাইন ডেস্ক
বিক্রেতারা জানালেন, ধারাবাহিক বৃষ্টির কারণে শাকসবজি তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সরবরাহ কমায় সবজির দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। সবজি বিক্রেতা বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা দাম কমানোর চেষ্টা করি, কিন্তু পাইকারি বাজারেই দাম বেশি।’
কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস জানান, ‘বৃষ্টির কারণে অনেক জমি পানির নিচে চলে গেছে। তাই সবজির সরবরাহ কমে গেছে। শসার দাম সবচেয়ে বেশি বাড়েছে। আজ এক কেজি শসার দাম ১০০ টাকা স্পর্শ করেছে।’
বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। এছাড়া পটোল ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, কচুর মুখী ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ধনেপাতা ১০০ টাকা এবং টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
তবে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০ টাকার ওপরে। বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি হওয়ায় মরিচের দাম কমেছে।
অন্যদিকে মুরগির দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। আর সোনালি মুরগির দাম হয়েছে ৩০০ টাকা।
মুরগি কেনার জন্য বাজারে আসা ক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ব্রয়লার মুরগির দামও এখন ১৭০ টাকা।’
বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে পর্যাপ্ত মুরগি বাজারে আসছে না, তাই দাম বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়, খাসির মাংস ১,২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১,১০০ টাকায়।
চালের বাজারেও নতুন কোনো দাম বাড়েনি। আগের মতোই মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮২-৮৫ টাকায়, নাজিরশাইল চাল ৮৫-৯২ টাকা এবং মোটা চাল ৫৬-৬২ টাকায়।
মাছের বাজারে ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি। মাছ বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, ‘১ কেজির ইলিশ বিক্রি করছি ২,২০০ টাকায়। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৬০০-১৮০০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রাম ইলিশ ১৪০০-১৫০০ টাকা, আর দেড় কেজির ইলিশ ২,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২৩৫ টাকা, কৈ মাছ ২৮০-৩০০ টাকা এবং পাবদা ও শিং মাছ ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতা সুমনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবকিছুর দাম আবার বেড়ে গেছে। সরকার যদি বাজার মনিটরিং না করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।’
ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয়ই দাবি করছেন, বাজারে মনিটরিং জোরদার করা হোক যাতে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।