মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
যে ফাইনাল বদলে দিতে পারে ফুটবল ইতিহাসের মানচিত্র!
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ এক মাসের রোমাঞ্চকর যুদ্ধের শেষে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে দুই ইউরোপীয় পাওয়ার হাউস—প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ও চেলসি। রোববার মধ্যরাতে বিশ্বমঞ্চে যখন তারা মুখোমুখি হবে, তখন গোটা ফুটবল দুনিয়া থমকে যাবে উত্তেজনায়, প্রতিটি মিনিট হবে নাটকীয়তায় ভরপুর।
চেলসির তরুণ ব্রিগেড, ম্যানেজার এনজো মারেস্কার কৌশলী নেতৃত্বে, পুরো টুর্নামেন্টে আশ্চর্যজনক ফুটবল খেলেছে। ফ্ল্যামেঙ্গোর কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বেনফিকা, পালমেইরাস ও সেমিফাইনালে ফ্লুমিনেন্সকে হারিয়ে তারা শক্ত বার্তা দিয়েছে। জোয়াও পেদ্রোর সেমিফাইনালের জোড়া গোল যেন ফাইনালের আগে দলকে আত্মবিশ্বাসে ভরিয়ে দিয়েছে।
তবে চেলসির রক্ষণের ফাঁকফোকর এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। টানা প্রতিটি ম্যাচে গোল হজম করা দলটির জন্য পিএসজির বিধ্বংসী আক্রমণভাগ হতে পারে সবচেয়ে বড় হুমকি। বিশেষ করে কাইসেদোর ইনজুরি তাদের মিডফিল্ডের ভারসাম্য ভেঙে দিতে পারে।
অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ছাড়াও পিএসজি যেন আরও ধারালো হয়ে উঠেছে। কোচ লুইস এনরিকের হাত ধরে দলটি গড়েছে এক নতুন চেহারা। এবার লিগ ওয়ান আর চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলটি ক্লাব বিশ্বকাপেও ১৬ গোল করে ফাইনালে এসেছে।
ইন্টার মায়ামি ও রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া দলটি কেবল জয় নয়, আধিপত্য দেখিয়েছে। উসমান দেম্বেলে তার জাদুকরী ফুটবলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে একাই যথেষ্ট। সাথে রয়েছেন খভিচা, ফাবিয়ান রুইজ ও দেজিরে দোয়ে, যারা মিলে রীতিমতো গোল-বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
পিএসজির মিডফিল্ডের মেধাবী ত্রয়ী ভিতিনহা, রুইজ ও নেভেস পুরো মৌসুম জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে। দুই দিক থেকে হাকিমি ও নুনো মেন্ডেসের গতির ঝড় যেন চেলসির রক্ষণভাগে কাঁপন ধরিয়ে দেবে। কাগজে-কলমে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও, ফুটবল বারবার দেখিয়েছে—প্রেডিকশন মানেই চমকের শুরু।
চেলসি কি পারবে পিএসজিকে থামিয়ে দিতে? নাকি ‘পারফেক্ট সিজন’ শেষ করে বিশ্বসেরার মুকুট ছিনিয়ে নেবে ফরাসি ক্লাবটি?
রোববার রাত ১টায় যখন ফাইনাল শুরু হবে, তখন গোটা দুনিয়ার চোখ থাকবে এই ৯০ মিনিটের যুদ্ধের ওপর। গণমাধ্যম জানায়, ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর সুযোগ দুই দলের হাতেই।