সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
সাত খেলোয়াড়ের ছাঁটাই হোয়াটসঅ্যাপে! আয়াক্সে শুরু রদবদলের ঝড়!
অনলাইন ডেস্ক
নেদারল্যান্ডসের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আয়াক্স আমস্টারডাম এখন যেন টালমাটাল জাহাজ! মাঠে ব্যর্থতা আর আর্থিক বিপর্যয়ে ধুঁকছে দলটি। সেই সংকটের চাকা ঘোরাতে গিয়ে ক্লাব নিল এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত—সাত ফুটবলারকে ছেঁটে ফেলা হলো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়!
২০২৪-২৫ মৌসুমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পিএসভির পেছনে থেকে মৌসুম শেষ করে আয়াক্স। শেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র এক জয় (২-০ বনাম টোয়েন্টে), দুটি নিষ্ফলা ড্র ও দুটি লজ্জাজনক হার (০-৪ বনাম উত্রেখট, ০-৩ বনাম এনইসি)—সব মিলিয়ে ক্লাব যেন ছায়া হয়ে উঠেছিল নিজেকেই। ফলাফল—কোচ ফ্রান্সেস্কো ফারিওলির পদত্যাগ ও ক্লাব পুনর্গঠনের ঘোষণায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
সেই নতুন অধ্যায়ের দায়িত্ব গেল ক্লাব কিংবদন্তি জন হেইটিংগার হাতে। তবে যেভাবে শুরু, তাতে রোমাঞ্চের চেয়ে বিতর্কই বেশি! সাত খেলোয়াড়—চুবা আকপম, কার্লোস ফর্বস, বোর্না সোসা, ক্রিশ্চিয়ান রাসমুসেন, ক্রিস্টিয়ান হ্লিনসন, জে গোরটার ও ব্রানকো ভ্যান ডেন বুমেন—হোয়াটসঅ্যাপে পেলেন ‘বিদায় বার্তা’। শুধু ক্লাব নয়, তাদের ট্রেনিং সেন্টার ও পার্কিং লটেও নিষেধাজ্ঞা জারি!
চমক এখানেই শেষ নয়। যাদের বাদ দেওয়া হলো, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক মৌসুম আগেই এসেছেন বড় অঙ্কের বিনিময়ে—ফর্বসকে কিনতে সিটির পেছনে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৭ কোটি টাকা, আকপমের জন্য মিডলসব্রোকে দেওয়া হয়েছিল ১৫ কোটি, আর সোসার জন্য স্টুটগার্ট পেয়েছিল ১০ কোটি টাকারও বেশি!
অর্থনৈতিক সঙ্কটে হিমশিম খাওয়া আয়াক্স এই খেলোয়াড়দের বিক্রি করে বাজেট ঘাটতি মেটাতে মরিয়া। মাঠে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ক্লাব যেন কোনো আবেগকেই আর মূল্য দিচ্ছে না।
গণমাধ্যমে আয়াক্সের এমন আচরণ নিয়ে উঠেছে প্রবল সমালোচনার ঝড়। আধুনিক ফুটবলে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি হলেও, খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান কি তবে বিলুপ্তির পথে? এখন দেখার বিষয়—এই রদবদলের পর আয়াক্স মাঠে কতটা বদলাতে পারে।