মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
আনচেলত্তির নিয়োগেই হোঁচট খেল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল প্রশাসন!
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলে হইচই ফেলে দেওয়া কার্লো আনচেলত্তিকে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাই এখন উল্টো বিতর্কে ফেঁসে যাচ্ছে। আনচেলত্তির নিয়োগ নিয়ে এবার ফিফার তদন্তের মুখে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। অভিযোগ গুরুতর—একজন অননুমোদিত মধ্যস্থতাকারীকে ১.২ মিলিয়ন ইউরো কমিশন দেওয়া হয়েছে, যা ফিফার এজেন্ট বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
ফিফার স্পষ্ট নিয়ম, দলবদল বা নিয়োগে কেবলমাত্র নিবন্ধিত ফুটবল এজেন্টরাই মধ্যস্থতা করতে পারবেন। অথচ আনচেলত্তির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন ডিয়েগো ফার্নান্দেজ নামের এক ব্যবসায়ী, যিনি ফিফার কোনো তালিকায়ই নেই। গণমাধ্যম ইএসপিএন ব্রাজিল জানিয়েছে, আনচেলত্তির সঙ্গে চুক্তিপত্রে এই ব্যবসায়ীর নাম থাকা এবং প্রক্রিয়ায় তাকে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যাওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
উইওল স্পোর্টস-এর বরাতে জানা গেছে, ফিফা ইতোমধ্যেই সিবিএফ-কে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে—ডিয়েগো ফার্নান্দেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের চুক্তি, বার্তা এবং প্রমাণ আগামী ৪ জুনের মধ্যে জমা দিতে হবে। মজার ব্যাপার, সেই তারিখের পরদিনই আনচেলত্তি ব্রাজিলের হয়ে কোচ হিসেবে অভিষেক ঘটাতে যাচ্ছেন ইকুয়েডরের বিপক্ষে, গায়াকুইলে।
বিতর্ক আরও জমে ওঠে যখন দেখা যায়, ফার্নান্দেজ আনচেলত্তির সঙ্গেই একই ফ্লাইটে রিও ডি জেনেইরোতে পৌঁছান। তার পরনে ছিল ব্রাজিল দলের রেট্রো জার্সি, এবং তিনি নিজেকে সিবিএফের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করেন। এমন প্রকাশ্য ‘প্রভাব খাটানো’তে ক্ষুব্ধ সিবিএফের বর্তমান নেতৃত্ব। নতুন সভাপতি সামির জাউদের অধীনে সিবিএফের বোর্ড চালু হলেও, আগের সভাপতি এডনালদো রদ্রিগেজের নিয়োগ-সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে উঠছে প্রশ্ন।
৬৫ বছর বয়সী আনচেলত্তির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। বছরে তার পারিশ্রমিক প্রায় ১ কোটি ইউরো। এমন অভিজ্ঞ এবং সফল এক কোচকে দায়িত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের ফুটবলের জন্য বড় মাইলফলক। কিন্তু সেই চুক্তিকে ঘিরেই এখন আইনি দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে, যা সিবিএফের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এর আগেও অননুমোদিত মধ্যস্থতার অভিযোগে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। এবার লাতিন আমেরিকায় এমন কোনো ঘটনা হলে সেটিই হবে প্রথম দৃষ্টান্ত। সিবিএফ যদি যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আনচেলত্তির নিয়োগ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, এমনকি আর্থিক জরিমানা কিংবা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দলের যাত্রা শুরু হলেও, শুরুতেই এমন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়াটা সিবিএফের জন্য চরম অস্বস্তিকর। তদন্ত এখন শুধু একজন কোচকে ঘিরে নয়, বরং গোটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকেই ঘিরে তৈরি করছে জোরালো প্রশ্ন।