সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
প্রেম আর জমির দ্বন্দ্বে গলা কেটে খুন জামাতা!
অনলাইন ডেস্ক
শালীর সঙ্গে গোপন প্রেম ও জমিজমা নিয়ে তীব্র বিরোধের জেরে এক জামাতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন তারই শ্বশুর। শুধু হত্যায় থেমে যাননি তিনি—জামাতার গলা কেটে পুরো দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলেন। এই ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
নিহত ব্যক্তি বিশ্বনাথ, যিনি রাজ্যের ধর্মভরম এলাকার বাসিন্দা। দুই দশক আগে তিনি বিয়ে করেন ভেনকাটামনাপ্পার বড় মেয়ে শ্যামলাকে। কিন্তু বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকার পরও শ্যালিকার সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
এই নিষিদ্ধ সম্পর্ককে ঘিরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে—বিশ্বনাথের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির মাঝেও সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিশ্বনাথ তার শাশুড়ি এবং শ্যালিকে নিয়ে পাড়ি জমান পার্শ্ববর্তী কাদিরি শহরে।
নতুন এলাকায় বসতি গড়ার পর তিনি শাশুড়ির নামে থাকা জমি বিক্রি করার চেষ্টা করেন। এতে শ্বশুর ভেনকাটামনাপ্পা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সিদ্ধান্ত নেন জামাতাকে মুছে ফেলবেন চিরতরে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, ভেনকাটামনাপ্পা তার বন্ধু কাটামাইয়ার সহায়তায় পরিকল্পনা সাজান। জামাতাকে খুন করার বিনিময়ে বন্ধুকে চার লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এরপর গত ৩ জুলাই বিশ্বনাথকে কৃষি কাজের কথা বলে ৫০ হাজার রুপি সহায়তার ফাঁদে ফেলেন কাটামাইয়া। কাদিরি থেকে ডেকে এনে মুদিগুব্বার একটি পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ভেনকাটামনাপ্পা, কাটামাইয়া ও আরও তিন সহযোগী মিলে বিশ্বনাথকে শিরচ্ছেদ করে হত্যা করেন এবং দেহ টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দেন।
মোবাইল ফোন টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে পুলিশের সন্দেহের তীর যায় অভিযুক্তদের দিকেই। দ্রুত তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার নৃশংসতা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার খুন। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে নানা তথ্য পাওয়ার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং মামলার তদন্তও পুরোদমে এগিয়ে চলছে।