1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, এক বছরে এলো ৩০ বিলিয়ন ডলার - Janatar Jagoron
শিরোনাম

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, এক বছরে এলো ৩০ বিলিয়ন ডলার

  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫
  • ২২৩ বার পঠিত
রেমিট্যান্স

রেমিট্যান্সে ভেঙে গেল সব রেকর্ড, অর্থনীতি পেল নতুন প্রাণ!
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভরসার খুঁটি রেমিট্যান্স নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে। অর্থবছর শেষ হতে এখনও দুদিন বাকি থাকলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অঙ্ক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ইতিহাসে কোনো অর্থবছরে আগে কখনও এত বিপুল রেমিট্যান্স আসেনি।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্সের রেকর্ড হয়েছিল ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের রেমিট্যান্স সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রোববার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২.৫৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৫৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। জুনের শেষ প্রান্তিকেও এই প্রবাহ জারি থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স ২৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে এধরনের জোয়ার সৃষ্টির পেছনে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হুন্ডি দমনে কঠোর পদক্ষেপ, প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে উৎসাহিত করা, প্রণোদনা বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার অগ্রগতি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রাপ্ত রেমিট্যান্স পুরোপুরি বৈধ ব্যাংকিং মাধ্যমে এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ১৯১ কোটি, আগস্টে ২২২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি এবং ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। নতুন বছরে জানুয়ারিতে এসেছে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি, মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি এবং মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলার। মার্চ মাসে একক মাসে রেমিট্যান্স ৩৩০ কোটি ডলারের barrier অতিক্রম করেছে, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহে এই অগ্রগতি শুধু সংখ্যার খাতায় অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতি ও শক্তির প্রমাণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করা দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক নীতি, ব্যাংকিং সংস্কার ও প্রণোদনা কীভাবে বৈধ অর্থপ্রবাহ বাড়াতে পারে। হুন্ডি দমন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা এবং সরকারি সহায়তা এই সাফল্যের প্রধান চালিকা শক্তি।’

তিনি যোগ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিপুল রেমিট্যান্স রিজার্ভে স্বস্তি এনেছে, ডলার বাজারের চাপ কমিয়েছে এবং আমদানি ব্যয়ের ভার সহজ করেছে। তবে এই ধারা ধরে রাখতে হলে প্রবাসী শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে আরও বিনিয়োগ জরুরি। রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার উৎস নয়, বরং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশলগত হাতিয়ার—এটি মাথায় রেখে পরিকল্পনা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যমতে, জুলাই থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৩৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ, প্রবাসী আয়ে এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের রেমিট্যান্স-বান্ধব নীতি ও প্রবাসীদের সহযোগিতা এই রেকর্ডের পেছনে বড় অবদান রেখেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে রিজার্ভ আরও শক্ত হবে এবং অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় সামলানো, ডলার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে এই রেমিট্যান্স বড় অবলম্বন হিসেবে কাজ করছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর প্রবাসী আয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে। এই ধারা টিকিয়ে রাখতে হলে প্রবাসীদের আস্থা আরও মজবুত করতে হবে এবং হুন্ডি প্রতিরোধে চলমান পদক্ষেপকে আরও তীব্র করতে হবে। তবেই প্রবাসীদের শ্রমঘামে অর্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..