সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
কৃত্রিম ঘাস: সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক
বর্তমান সময়ে শহুরে এলাকাগুলোতে সবুজের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তে কৃত্রিম উপকরণগুলি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কংক্রিটে ঘেরা শহরগুলোতে প্রাকৃতিক ঘাসের পরিবর্তে কৃত্রিম ঘাসের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ির ব্যালকনি বা আশপাশের ছোট জায়গাগুলোকে সাজাতে কৃত্রিম ঘাস ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দেখতে সুন্দর হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব খুব একটা ভাল নয়।
সম্প্রতি দ্য ইউনিভার্সিটি অফ প্লাইমাউথ একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা জানিয়েছে, কৃত্রিম ঘাস মাটির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। তাদের গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, কৃত্রিম ঘাস দীর্ঘ সময় ধরে মাটির উপরে থাকলে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং মাটি তার গুণগত মান হারায়। কৃত্রিম ঘাসের উপাদান প্রধানত প্লাস্টিক, যা মাটির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা একসময় মাটির পানি ধারণ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। এর ফলে, সাধারণ বৃষ্টিতে মাটিতে পানি জমে যেতে পারে, যা জমির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া, কৃত্রিম ঘাসে থাকা কার্বন এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক মাটির জন্য বিপজ্জনক। এটি মাটির স্বাস্থ্য হ্রাস করে এবং মাটির ওপর বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের সঞ্চয় হতে পারে। অনেক সময়, কৃত্রিম ঘাসে প্রাণীরা মুখ দিলে তাদের শারীরিক সমস্যাও হতে পারে, যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ।
প্লাস্টিকের তৈরি এই ঘাস মাটির জন্য যতটা ক্ষতিকর, তার থেকে বেশি ক্ষতি তার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে। অনেকেই মনে করেন, বাড়ির বাগানে কৃত্রিম ঘাস ব্যবহার করে তারা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছেন, কিন্তু প্রকৃত ঘাসের সঙ্গে তার তুলনা করা যায় না। প্রকৃত ঘাস মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। অন্যদিকে, কৃত্রিম ঘাস সেই ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে না।
তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, বাড়ির বাগানে কৃত্রিম ঘাস ব্যবহার না করাই ভালো। ব্যালকনিতে বা ছোট জায়গায় এই ধরনের ঘাসের ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু যাদের পোষ্য আছে, তাদের জন্য এটি ব্যবহার না করাই অধিক সুবিধাজনক। পোষ্যদের শারীরিক সুস্থতা এবং মাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকৃত ঘাস ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সবশেষে, কৃত্রিম ঘাসের সৌন্দর্য এবং সুবিধা যে মাটি ও পরিবেশের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর, তা বুঝতে হবে এবং সচেতনতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।