সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
আসবাব মানেই হাতিল-আকতারের রাজত্ব, দামও যুক্তিযুক্ত
অনলাইন ডেস্ক
দেশি ব্র্যান্ড মানেই শুধু দামি আসবাব নয়, বরং আধুনিক ডিজাইন, টেকসই কাঠ ও ফিনিশিংয়ের ছোঁয়ায় এখন ব্র্যান্ডেড আসবাবই হয়ে উঠছে স্মার্ট গৃহসজ্জার পরিচয়! রাজধানী থেকে গ্রামগঞ্জ—সব জায়গায় ধীরে ধীরে বিস্তার ঘটাচ্ছে এই ব্র্যান্ড আসবাবের আধিপত্য।
এক সময় ঘরের খাট-পালঙ্ক বানাতে মানুষ ছুটতেন পাড়ার কাঠমিস্ত্রির কাছে। নিজের মাপ ও পছন্দ মতো ফরমাশে আসবাব তৈরি ছিল খুব সাধারণ দৃশ্য। সেই চিত্র এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। আধুনিক ডিজাইন, স্থায়িত্ব এবং ইনস্ট্যান্ট কেনাকাটার সুযোগ এনে দিয়েছে ব্র্যান্ডের তৈরি আসবাব। ১৯৭৫ সালে অটবি প্রথম শুরু করলেও ২০০০ সালের পর থেকে হাতিল, আকতার, পারটেক্স, নাদিয়া, রিগ্যাল, ইশো, জেএমজি, ব্রাদার্সসহ বহু ব্র্যান্ড তৈরি করেছে দেশের আসবাব বিপ্লব। সিটি থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত এখন মিলছে এসব ব্র্যান্ডের শোরুম।
বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে আসবাব খাতের বাজার এখন প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ বাজার দখলে নিয়েছে ব্র্যান্ডগুলো। অথচ সারা দেশে প্রায় ৪০ হাজার আসবাব তৈরির প্রতিষ্ঠান থাকলেও ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১০০–এর আশপাশে।
ব্র্যান্ডেড আসবাবের দাম বেশি—এমন ধারণা থাকলেও ব্যবসায়ীদের দাবি ভিন্ন। আসবাব তৈরির প্রায় ৫০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। কাঠ, বোর্ড, কাপড়, স্ক্রু, লেকারসহ নানা উপকরণ আমদানিতে গড়ে শুল্ক দিতে হয় ৫২ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত। উপরন্তু ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির খরচও বেড়েছে দ্বিগুণ। তাই চাইলেও ব্র্যান্ডরা সাশ্রয়ী দামে আসবাব দিতে পারছে না।
ফলে কাঠের তৈরি একটি বিছানার দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ওপরে, ছয় সিটের খাবার টেবিল ৫০ হাজারের বেশি পড়ছে। অন্যদিকে মফস্বলের ছোট কারিগরেরা তুলনায় অনেক সস্তায় কাজ দিতে পারায় তাঁদের দখলে এখনো বাজারের ৬৫ শতাংশ অংশ।
রপ্তানির দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। গত অর্থবছরে আসবাব রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের। অথচ চীন, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ডের মতো দেশ এই খাতে বৈশ্বিকভাবে দাপট দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও উচ্চ শুল্ক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৮টি দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধার অভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে দেশি ব্র্যান্ড।
বিডা এবং ইপিবি মনে করছে, যদি শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের আসবাব রপ্তানি খুব সহজেই ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারবে। উদ্যোক্তারাও ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে আমদানি করতে প্রস্তুত।
হাতিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, “রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরছে, ব্যাংক খাতে সংস্কার আসছে—আশা করি সামনে দেশি আসবাব খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”
ব্র্যান্ড আর দামি—এই পুরোনো ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন আসবাব মানে এখন স্টাইল, টেকসই আর দেশের গর্ব।