সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
একটা ছোট্ট ঘরও হয়ে উঠতে পারে স্বপ্নের আয়েশি নির্জন কোণ!
অনলাইন ডেস্ক
শহরের ব্যস্ততায় এখন বেশিরভাগ ঘরের পরিধি ছোট, কিন্তু তা বলে আরাম আর আনন্দে ঘাটতি কেন থাকবে? অন্দরসজ্জার একটু বুদ্ধিদীপ্ত ছোঁয়ায় ছোট্ট বসার ঘরটাই হয়ে উঠতে পারে পরিবারের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও আয়েশি জায়গা।
হালকা কাঠের টোন, সাদামাটা অথচ পরিপাটি ডিজাইনের আসবাব, সঙ্গে যদি থাকে কিছু প্রকৃতির পরশ—তাহলেই আধুনিক বসার ঘরের জাদু তৈরি! এমনটাই জানালেন ‘হাতিল’-এর পরিচালক সফিকুর রহমান।
গত কয়েক বছর ধরে ট্রেন্ডে ছিল কম উচ্চতার ছিমছাম সোফা। তবে অনেকেই এতে বসতে বা উঠতে অস্বস্তি বোধ করায় এখন মাঝারি উচ্চতার আরামদায়ক সোফাই সেরা পছন্দ। আরাম নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নতমানের ফোম, যেটা দীর্ঘসময় বসেও ক্লান্তি আনবে না।
একজন, দুজন নয়—এখন চারজন পর্যন্ত বসতে পারেন এমন সোফার চাহিদা বাড়ছে। ইংরেজি ‘L’ আকৃতির সোফা যেখানে এক পাশে ডিভান থাকায় এটিকে একাধারে আরামদায়ক বসার জায়গা ও আধুনিক ঘরসজ্জার অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
মাল্টিপারপাস সোফাও এখন জনপ্রিয়—যেখানে দিনভর আড্ডা আর রাতে অতিথির বিশ্রাম দুটোই সম্ভব। এ ছাড়া কেউ কেউ ঘরের এক পাশে মেঝেতে বসার আরামদায়ক ব্যবস্থা রাখছেন, থাকছে বড় কুশন, কখনো আবার ঝুলন্ত বা রকিং ইজিচেয়ারও।
বইপ্রেমীদের জন্য দেয়ালের এক পাশে বইয়ের তাক, হাত বাড়ালেই প্রিয় বই। এর সঙ্গে একঝাঁক সবুজ গাছ—অন্দরসজ্জায় আনে প্রশান্তি আর বিশুদ্ধ বাতাস। বারান্দা থাকলে সেখানে রাখা যায় ফার্ন, মানিপ্ল্যান্ট বা সাকুলেন্ট জাতীয় গাছ, যা দেখতেই মন ভাল হয়ে যায়।
আলো নিয়েও আছে বিশেষ আয়োজন। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস যাতে ঘরে ঢোকে, সেই সুযোগ তৈরি করে রাখুন। আর সন্ধ্যা বা রাতে বই পড়ার সময় কাজে লাগবে টেবিল ল্যাম্প বা ফ্লোর ল্যাম্প। আলোর তীব্রতা যাতে প্রয়োজনমতো বাড়ানো-কমানো যায়, এমন আলোই হবে বসার ঘরের বন্ধু। অতিথি এলে আবার গোটা ঘর আলোকিত করে তোলার ব্যবস্থা রাখুন।
অল্প জায়গায় যত্ন নিয়ে সাজানো বসার ঘরই হয়ে উঠতে পারে পরিবারের প্রিয় আড্ডা-আসর। একটু পরিকল্পনা আর নিজের ছোঁয়াতেই মুছে যাবে চার দেওয়ালের একঘেয়েমি।