শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
ব্যাংক লোন ঢাকতেই বানালেন ছিনতাইয়ের সিনেমা স্টাইল কাহিনি!
অনলাইন ডেস্ক
দিনাজপুরের বিরলে প্রকাশ্য দিনে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের যে ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল, সেটির রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশি চেষ্টায় মাত্র ১১ ঘণ্টার মধ্যে নাটকীয়ভাবে ভেসে ওঠে প্রকৃত সত্য—এবং প্রশংসিত হয় দিনাজপুর জেলা পুলিশ।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মাঠে নামে জেলা পুলিশ ও ডিবি। তদন্তে বেরিয়ে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য—ব্যাংক ঋণের বোঝা থেকে রক্ষা পেতেই ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম নিজেই সাজিয়েছিলেন পুরো ছিনতাইয়ের নাটক।
বিরল উপজেলার ৬ নম্বর ভান্ডারা ইউনিয়নের গোপালপুর বড়বাড়ির বাসিন্দা মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে মইনুল একজন সার-কীটনাশক ও শস্য ব্যবসায়ী। কিন্তু ঋণের চাপে পড়ে অবশেষে অপরাধী হয়ে উঠলেন নিজেই।
বুধবার (২৫ জুন) রাত ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল হালিম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই, অতঃপর পুলিশের জালে আসল অপরাধী। নাটক শেষ, আসল গল্প উন্মোচন।’ তিনি আরও জানান, আইএফআইসি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ৮ লাখ টাকা সহ মোট ১১ লাখ টাকা, মোটরসাইকেলের চাবি এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় মইনুলের বাসা থেকে।
তিনি লেখেন, “পুলিশের প্রতি আস্থা রাখুন, সহায়তা করুন।” অন্যদিকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন বলেন, “ঘটনার সময়েই ঘটনাস্থলে যাই। খবর ছিল অস্ত্রধারী ছিনতাইয়ের, তাই ডিবি ও পুলিশের একাধিক টিম সঙ্গে নিই। মাঠে নামার পরই জানা যায়, মূল ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
তিনি বলেন, “মইনুলের বিরুদ্ধে একাধিক লোন রয়েছে। ব্যাংক থেকে শুনি তিনি ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। সেই টাকা ও আরও ৩ লাখ টাকা আমরা তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করি। উদ্ধারকৃত টাকা পরে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে মইনুল ইসলাম জানান, “আমি থানায় একটি জিডি করার জন্যই নাটকটি সাজাই। ভাবিনি এমন পর্যায়ে যাবে।” বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বানিয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে হইচই ফেলে দেন তিনি।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর দিনাজপুর জেলা পুলিশ দ্রুত মাঠে নামে এবং পুরো ঘটনাটির চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় মোড় ফাঁস করে।