মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ১৯ মার্চ একদিনে দুই দফায় যে মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দেয়, সোমবারও (২৩ মার্চ) সেই দামে লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।
দুই দফায় ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা কমায় বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।
সর্বশেষ নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, এখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়, যা আগে ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।
এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বর্তমানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি জানিয়েছে, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের স্তর থেকে নেমে ৪ হাজার ৩৬৪ ডলারে এসেছে, যা বড় পতনের ইঙ্গিত দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে মাসের শুরুতে দাম বাড়লেও বর্তমানে বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।
এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেই ১৯ মার্চ একদিনে দুইবার স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। প্রথম দফায় সকালে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা এবং বিকেলে দ্বিতীয় দফায় আরও ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়।
২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার দাম কমানো হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্বর্ণের এই বড় মূল্য হ্রাস সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমে আসায় এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।