রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
লেবাননের দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৭। এর মধ্যে ২১ জন শিশু, ৩৯ জন নারী এবং দুইজন প্যারামেডিক কর্মী রয়েছেন। আহতের সংখ্যা ৭২৭ জনে পৌঁছেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত কয়েকদিন ধরে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এর অংশ হিসেবে, সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি বাহিনী একাধিক বিমান হামলা চালায়, মূলত লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা লেবাননে প্রায় ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। গত বছরের ৮ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল ইসরাইলের সবচেয়ে বড় হামলা।
হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিনতে জবেইল, আইতারুন, মাজদাল সেলেম, হুলা, তোরা, কলাইলেহ, হারিস, নাবি চিত, তারায়া, শ্মেস্টার, হারবাতা, লিবায়া এবং সোহমোরসহ আরও কয়েক ডজন শহর।
বেশিরভাগ আঘাতই আবাসিক এলাকায় হানা দেয়, যার ফলে নাবাতিয়েহ ও বেকা উপত্যকার বাড়িঘর, গুদাম এবং কারখানাগুলোতে আগুন ধরে যায়। লেবানিজ সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
লেবানিজ সিভিল ডিফেন্সের মতে, তাদের জরুরি উদ্ধার দলগুলো ইসরাইলি আক্রমণের ফলে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছে। নিহতদের লাশও তারা উদ্ধার করছে।
এক বিবৃতিতে সিভিল ডিফেন্স জানায়, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে গত শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি হামলায় যে ভবন ধ্বংস হয়েছে, সেখানেও লাশ উদ্ধার কাজ চলছে। বিধ্বস্ত ওই ভবন থেকে এখন পর্যন্ত ৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এবং এখনও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়ও ইসরাইলি আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
এদের মধ্যে গাজার দেইর এল-বালাহতে এক মা এবং তার চার সন্তান নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, স্কুলে আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় দুটি আলাদা হামলায় ১০ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।