বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, বিদায় ১৪৩২, স্বাগতম নতুন বছর ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ, যা বাংলা সনের প্রথম দিন, এই উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষের প্রতি তিনি জানান শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তিনি উল্লেখ করেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। শত শত বছর ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে ফিরে আসে নতুন আশার বার্তা নিয়ে। নতুন বছরের সূচনায় অতীতের ক্লান্তি ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জাগায় এই দিন।
তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িত। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও কৃষক প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বাংলার হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধ পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুনভাবে প্রাণ পায়। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা এবং হালখাতার মতো আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে এবং সমাজে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে। নতুন বছর আমাদের সামনে নিয়ে আসে সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত। প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশাবাদ মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই সরকার দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ কৃষি খাত ও কৃষকদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের জনগণ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নববর্ষের এই শুভ সময়ে আমাদের উচিত সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করা। নতুন বছরের সূচনায় অতীতের হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী কামনা করেন, নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। দেশবাসীকে আবারও জানান আন্তরিক শুভেচ্ছা—শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।