শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
বিয়ে মানুষকে শালীনতা, পবিত্রতা ও পরিপূর্ণ জীবনের পথে পরিচালিত করে। মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিয়ের প্রচলন রয়েছে। ইসলামে বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য রয়েছে, তার বিয়ে করা উচিত। কারণ বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা পালন করে। কেননা রোজা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।’ (সহিহ বোখারি : ৫০৬৫, সহিহ মুসলিম : ১৪০০)
মানব সমাজের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা রক্ষায় ইসলামে ১৪ শ্রেণীর নারীর সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এদের সঙ্গে বিবাহ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে তাদের উল্লেখ রয়েছে। নিচে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো—
১. সৎ মা: পিতার স্ত্রী। দাদা-নানা ও ঊর্ধ্বতনদের স্ত্রীরাও এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মা: দাদী, নানী এবং ঊর্ধ্বতন সকল নারী এই হুকুমে শামিল।
৩. মেয়ে: নাতনী ও পরবর্তী সকল কন্যা অন্তর্ভুক্ত।
৪. বোন: সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় সব বোন অন্তর্ভুক্ত।
৫. ফুফু: পিতা ও দাদার সকল বোন এতে অন্তর্ভুক্ত।
৬. খালা: মা ও নানীর সব বোন এই হুকুমে অন্তর্ভুক্ত।
৭. ভাতিজী: ভাইদের মেয়ে ও তাদের বংশধররা অন্তর্ভুক্ত।
৮. ভাগিনী: বোনদের মেয়ে ও তাদের বংশধররা অন্তর্ভুক্ত।
৯. দুধ মা: তাঁর ফুফু, খালা, নানী ও দাদীও এর অন্তর্ভুক্ত।
১০. দুধ বোন: তার কন্যা, ভাতিজী ও ভাগিনীও অন্তর্ভুক্ত।
১১. শাশুড়ি
১২. স্ত্রীর পূর্ব ঔরসজাত কন্যা (সহবাসের শর্তে)
১৩. পুত্রবধূ: নাতি ও দৌহিত্রের স্ত্রীরাও অন্তর্ভুক্ত।
১৪. দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম
উল্লিখিত ১৪ নারী ছাড়াও আরও যেসব ক্ষেত্রে বিয়ে হারাম
উপরোক্ত তালিকার বাইরে আরও কিছু পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট নারীদের সঙ্গে বিয়ে করা হারাম। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—
১. একসঙ্গে চারজনের বেশি নারীকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ।
২. ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দুই নারীকে একসঙ্গে বিয়ে করা হারাম। যেমন—ফুফু-ভাতিজি বা দুই বোনকে একত্রে বিয়ে করা। কারণ পারিবারিক সম্পর্কের কারণে এটি বৈধ নয়।
৩. স্বাধীন নারীকে বিয়ে করার পর ক্রীতদাসীকে বিয়ে করা বৈধ নয়।
৪. তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে তাকে বিয়ে করা যাবে না।
৫. মুসলিম পুরুষের জন্য অমুসলিম নারীকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ।
৬. কোনও নারীর জন্য নিজের দাস বা গোলামকে বিয়ে করা হারাম।
৭. তিন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করা হারাম, যতক্ষণ না সে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহ ও ইদ্দত সম্পন্ন করে।
৮. যেসব নারীর সঙ্গে জেনা বা অনৈতিক স্পর্শ হয়েছে, তাদের মা, নানী, মেয়ে বা নাতনিকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ।
৯. অন্যের বৈধ স্ত্রীকে বিবাহ করা সম্পূর্ণ হারাম।
(ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী : ১/২৭৩, তাবঈনুল হাকাইক : ২/১০১, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ২/ ৮৩)