রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুঃখজনক এক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন, স্ট্যান্ড ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোমেনা পারভীন পারুলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে। জানা গেছে, সাংবাদিক মুকুল হোসেনকে এই ঘটনায় ক্যামেরা স্ট্যান্ড দিয়ে মারধরও করা হয়।
এটি ঘটে সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে, কাজিপুর ৩১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকিট কাউন্টারের সামনে। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ তথ্য অনুযায়ী, মোমেনা পারভীন পারুল ২০২০ সালে কাজিপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান। তিনি পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এডহক ভিত্তিতে মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ পেয়ে ছিলেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত বলে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে এশিয়ান টিভির কাজিপুর উপজেলা প্রতিনিধি রাব্বি হাসান হৃদয় এবং দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকার রিপোর্টার মুকুল হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শনে যান এবং রোগী ও স্বজনদের সাক্ষাৎকার নিতে শুরু করেন। এ সময় মোমেনা পারভীন পারুল এই সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন, স্ট্যান্ড ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত মোবাইলও নিয়ে নেন।
এশিয়ান টেলিভিশনের কাজিপুর প্রতিনিধি রাব্বি হাসান হৃদয় জানান, কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করতে তিনি সেবাগ্রহীতাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। এ সময় মোমেনা পারভীন পারুল আচমকা এসে তাদের ধাক্কা দেন এবং তাদের মাইক্রোফোন, স্ট্যান্ড ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরে ক্যামেরা স্ট্যান্ড দিয়ে তিনি সাংবাদিক মুকুল হোসেনকে বেধড়ক মারধর করেন।
এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মোমেনা পারভীন পারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কাজিপুর থানার ওসি নুরে আলম জানান, কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যদি কেউ অভিযোগ করেন।