বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
যদি এখন না জাগেন, কাল হয়তো দেরি হয়ে যাবে!
মোশারফ হোসেন, প্রকাশক, জনতার জাগরণ
সম্প্রতি রাজধানীতে ঘটে যাওয়া দুটি নৃশংস ও বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের চেতনাকে নাড়া দিয়েছে। একদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, আরেকটি ঘটনায় দেখা গেছে, দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীরা শুধু টাকা ও মোবাইলই নয়, এক যুবকের গায়ের জামা ও পায়ের জুতাও কেড়ে নিয়েছে। এই দুটি ঘটনার ভিন্নতা থাকলেও একটি জায়গায় তারা মিলিত—তা হলো, আমাদের সমাজে নিরাপত্তাহীনতার প্রকট চিত্র।
রাজধানী একটি দেশের মুখ। এখানকার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ পুরো জাতির প্রতিচ্ছবি বহন করে। কিন্তু যখন দিনের আলোতে রাস্তায় মানুষ খুন হয়, বা পথচারীর সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তখন প্রশ্ন উঠে—আমরা কোথায় যাচ্ছি? এই প্রশ্ন শুধু সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নয়, বরং সমাজের প্রতিটি সদস্যের প্রতি। আমরা কতটা সংবেদনশীল? কতটা সচেতন?
এই ধরনের ঘটনা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। বছরের পর বছর আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়, বিচারহীনতা, দারিদ্র্য ও মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ সামাজিক বিকৃতি তৈরি করেছে। তরুণরা কর্মসংস্থানের অভাবে অথবা নৈতিকতার অভাবে সহজ অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিচ্ছে। আবার, অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হওয়ায় অনেক অপরাধী বারবার পার পেয়ে যায়। এতে করে অপরাধপ্রবণতা আরও উৎসাহ পায়।
তবে এখানে শুধু দোষারোপ করলেই সমাধান আসবে না। আমাদের দরকার একটি সম্মিলিত সামাজিক জাগরণ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন—সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের মধ্যে নৈতিকতা, সহানুভূতি ও মানবিকতা গড়ে তুলতে হবে শৈশব থেকেই। সমাজে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তার শাস্তি নিশ্চিত।
সরকারের উচিত নগরজীবনে নিরাপত্তা জোরদার করা, রাস্তার সিসিটিভি মনিটরিং আরও শক্তিশালী করা এবং পুলিশি টহল বাড়ানো। একইসঙ্গে, অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
এই সম্পাদকীয় কোনো শ্রেণি, গোষ্ঠী বা কর্তৃপক্ষকে হেয় করার জন্য নয়। বরং আমরা চাই, সবাই মিলে এই অবস্থার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখুক। আমরা যেন আর কোনো মায়ের সন্তানকে রাস্তায় পড়ে থাকতে না দেখি। কোনো যুবক যেন আর নিজের জীবন রক্ষা করতে জামা-জুতো হারিয়ে না বসে। আমরা চাই একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহানুভূতিশীল সমাজ—যেখানে মানুষ মানুষকে ভয় নয়, ভালোবাসবে।