বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
৪০% তরুণ ভোটার—তাদের হাতেই আগামী নির্বাচনের চাবিকাঠি!
অনলাইন ডেস্ক
ইলেক্টোরাল ডেমোগ্রাফি বলতে বোঝায় নির্বাচনী জনগোষ্ঠীর গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ, যার মধ্যে রয়েছে বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী, পেশা এবং শহর-গ্রামের বিভাজন। একটি দল বা প্রার্থী কাকে, কোথায় এবং কীভাবে লক্ষ্য করবে তা ঠিক করতেই এই বিশ্লেষণ প্রয়োজন। গণমাধ্যম বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে ইলেক্টোরাল ডেমোগ্রাফি অপরিহার্য।
২০২৫ সালের মার্চ অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটির বেশি। তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪০%, যারা ২০০৮ সালের পর তালিকাভুক্ত হয়েছেন এবং এখনো সৎভাবে প্রথম ভোট দিতে পারেননি।
ধর্মীয় গঠনে ৯১.০৪% মুসলমান, ৭.৯৫% হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপস্থিতি রাজনৈতিক কৌশলে বিবেচ্য। গ্রামে প্রায় ৬০% জনগণ বাস করে, যারা ঐতিহ্যবাহী দলের প্রতি আনুগত্যশীল, শহুরে তরুণরা বরং পরিবর্তনের প্রতি উদগ্রীব।
বর্তমান সময়ে নির্ভরযোগ্য ইলেক্টোরাল পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, কারণ ২০০১ সালের পর বাংলাদেশে কোনো স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো অংশগ্রহণমূলক ছিল না। ফলে কোটি তরুণ ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত।
১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপি ছিল গ্রামীণ, রক্ষণশীল ভোটের দল, আওয়ামী লীগ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, শহর ও সংখ্যালঘুদের সমর্থিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোটব্যাংক ও বিশ্বাস বদলেছে।
জামায়াতে ইসলামি একসময় সুসংগঠিত দল ছিল, কিন্তু আদর্শিকভাবে পিছিয়ে। নতুন ইসলামপন্থী শক্তি যেমন ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি কিছুটা প্রভাব ফেললেও নির্বাচনী সফলতা পায়নি। প্রগতিশীল তরুণদের নিয়ে তৈরি গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
বর্তমান বাস্তবতায় ৪০% তরুণ ভোটারদের আস্থা যার পক্ষে যাবে, তারাই হবে আগামী নির্বাচনের নিয়ন্তা। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান নয়, গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে—নতুন প্রজন্মের চাহিদা বুঝতে না পারলে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়বে প্রচলিত দলগুলো। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এখন তরুণদের হাতে, আর তার প্রতিচ্ছবি ইলেক্টোরাল ডেমোগ্রাফিতেই।