রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
পাপীর দোয়া ফেরান না আল্লাহ, রাসূলের দোয়ায় অনন্য শিক্ষা
অনলাইন ডেস্ক
নিঃসন্দেহে, হাদিস শরিফে দোয়াকে ইবাদতের মগজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে দোয়া কবুলের জন্য আল্লাহর বিশেষ বন্ধু বা ওলি হওয়া আবশ্যক নয়। এমনকি পাপী বান্দার দোয়াও মহান আল্লাহ মঞ্জুর করেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) যখনই কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তেন, তখনই তিনি দোয়ায় ডুবে যেতেন।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দাও—আমি তো তাদের খুব কাছেই আছি। যখন কেউ আমাকে ডাকে, তখনই আমি তার ডাক শুনি ও কবুল করি। সুতরাং তারা যেন আমার নির্দেশ মেনে চলে এবং আমার ওপর ঈমান রাখে, যাতে তারা সফল হয়।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)
দোয়ার সময় পশ্চিম কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দিকের শর্ত নেই। আসল বিষয় হলো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। যে কোনো দিকে মুখ করে দোয়া করা জায়েজ। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চাইবে না, আল্লাহ তার প্রতি বিরূপ হন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮২৭) সুতরাং দিকের বিষয়টি আসল নয়।
তবে স্বাভাবিকভাবে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা মুস্তাহাব এবং দোয়ার আদবের অংশ। যদি ইমাম বা দোয়া পরিচালনাকারী মজলিস বা শ্রোতাদের দিকে ফিরে থাকেন, তাহলে তাদের দিকেই ফিরে দোয়া করা দোষের নয়। এটি সুন্নতের বিরোধিতা করবে না। বরং দুইটি পদ্ধতিই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
এক হাদিসে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘বদরের দিন রাসূল (সা.) শত্রুদের দিকে তাকালেন। তারপর কেবলামুখী হয়ে দুই হাত উঁচু করে জোরালোভাবে দোয়া শুরু করলেন—‘আল্লাহুম্মা আনজিযলি মা ওয়াদ্তানি’। এতটাই মনোযোগী ছিলেন যে তার কাঁধের চাদর পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৬৩)