মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
নদীর পানি নিয়ে মোদির রণকৌশল বদলে দিল হিসাব!
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি আর পাকিস্তানকে দেয়া হবে না বলে দৃঢ় ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে ইসলামাবাদকে প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জেরে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয় ভারত। যদিও দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত আপাতত থেমে গেছে, তবে পাল্টা হুমকি ও কঠোর বক্তব্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা উপমহাদেশ।
গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাজস্থানে এক জনসভায় মোদি বলেন, ভারতের ভূখণ্ড দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নদীগুলোর পানি পাকিস্তানে আর যেতে দেওয়া হবে না। এসময় তিনি ইসলামাবাদকে সরাসরি সন্ত্রাসের চরম মূল্য পরিশোধের হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধান আইন কর্মকর্তা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইসলামাবাদ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে পানিবণ্টন ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহী। তবে শর্ত হিসেবে ভারতের উচিত কয়েক দশক আগের চুক্তির প্রতিটি শর্ত মেনে চলা।
কাশ্মীর হামলার পরপরই নয়াদিল্লি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে, যার জন্য তারা ইসলামাবাদকে দায়ী করে। যদিও পাকিস্তান সে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ভারতের নদী থেকে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। কারণ ১৯৬০ সালের ঐ চুক্তি পাকিস্তানকে ভারত থেকে প্রবাহিত তিনটি বড় নদীর পানি ব্যবহারের ৮০ শতাংশ অধিকার দিয়েছিল।
পহেলগামের হামলার প্রতিক্রিয়ায় দু’দেশের মধ্যে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। শেষপর্যন্ত ১০ মে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ভারতের পরাজয় হয়েছে বলে পুনরায় দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, নয়াদিল্লি এই পরাজয়ের লজ্জা কোনোদিন ভুলতে পারবে না এবং ভারত অধিকৃত কাশ্মীর একদিন পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে।
এছাড়া, বেলুচিস্তানে স্কুলবাসে আত্মঘাতী হামলার দায়ভার ভারতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, বেলুচ লিবারেল আর্মি ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান — উভয়ই ভারতের গোপন প্রক্সি বাহিনী। তিনি জানান, খুব শিগগিরই এই অভিযোগের আন্তর্জাতিক প্রমাণ পেশ করবে ইসলামাবাদ।