মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
এক আসনের খোলসেই রক্ষা পেলেন ২৬৫ জনের মধ্যে একজন!
অনলাইন ডেস্ক
হঠাৎ এক তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন তিনি। এরপর তার আসন খুলে গিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ কারণেই জীবিত বেঁচে থাকার কৃতিত্ব দাবি করছেন আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার একমাত্র বেঁচে যাওয়া যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশ।
শুক্রবার (১৩ জুন) সকালেই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান। কীভাবে বিমানের ওই আসন খুলে বেরিয়ে এসেছিলেন, কীভাবে বিমানটি ভেঙে পড়ল—সবই বিস্তারিতভাবে বললেন তিনি।
আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এআই১৭১ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় ২৪০-এর বেশি যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
৪০ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রমেশ ২০০৩ সাল থেকে ব্রিটেনে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী ও সন্তানরা সেখানেই রয়েছেন। আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে ভারতে এসেছিলেন তিনি। একই ফ্লাইটে লন্ডনে ফিরছিলেন তার ভাইও, যাকে এখনো খুঁজে পাননি রমেশ।
রমেশ জানান, ভাইয়ের আসন বিমানের অন্য পাশে ছিল। তার কোন খোঁজ পাননি এখনো।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গতকাল হিন্দুস্তান টাইমসকে সাক্ষাৎকারে রমেশ বলেন, “বিমান ওড়ার মাত্র ৩০ সেকেন্ড পর এক বিরাট শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। তারপর বিমানটি ভেঙে পড়ে। সব কিছু ছিল খুব দ্রুত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যখন উঠে দাঁড়ালাম, চারপাশে শুধুই মৃতদেহ। ভয় পেয়ে দ্রুত দৌড়াতে শুরু করি। চারদিকে বিমানের ভগ্নাংশ দেখতে পাই। পরে কেউ আমাকে টেনে ধরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিল। আমি হাসপাতালে পৌঁছাই।”
শুক্রবার সকালে সিভিল হাসপাতালের চিকিৎসকদের জানিয়েছেন, তার আসনটি হঠাৎ খুলে যাওয়ায় হয়তো তিনি বেঁচে গেছেন।
রমেশ জানান, “পুরো বিমান ভেঙে পড়েছিল। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে আমার আসন খুলে বেরিয়ে আসার সুযোগ হয়েছিল। তাই বেঁচে গেছি।”
গণমাধ্যমকে তিনি জানান, যেখানেই পড়েছিলাম, সেখানে একটি হোস্টেলের একতলার ফাঁকা স্থান ছিল। সেখান দিয়ে বের হতে চেষ্টা করেছিলাম। অন্য পাশে হোস্টেলের দেয়াল থাকায় কেউ বের হতে পারেনি। তার বাঁ হাত একটু পুড়ে গেছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমানের ইকোনমি ক্লাসের ১১এ আসনে ছিলেন রমেশ। তার আসনটি ছিল জরুরি দরজার কাছে। কীভাবে বাইরে বের হয়েছেন, তা বলতে পারেননি তিনি। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
যেখানে বিমান ধাক্কা খেয়েছিল, সেটি ছিল চিকিৎসকদের একটি হোস্টেল। তখন ডাক্তারি পড়ুয়ারা খাবার খাচ্ছিলেন। বিমান এসে হঠাৎ বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ে। বসত এলাকায় এই দুর্ঘটনার ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিমানের অনেক দেহ ছিন্নভিন্ন হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষা চলছে শনাক্তের জন্য।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানে ছিলেন ১৬৯ ভারতীয়, ৫২ ব্রিটিশ, সাত পর্তুগিজ ও একজন কানাডিয়ান নাগরিক। গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণীও এই বিমানে ছিলেন এবং তিনি নিহত হয়েছেন।