সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
হারিয়ে যাওয়া ৩৫ প্রাণের স্বদেশে ফিরে আসার গল্প!
অনলাইন ডেস্ক
গণমাধ্যমে প্রকাশ, পাচারের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে আটক থাকা ৩৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে দিচ্ছে ভারতীয় পুলিশ। এদের মধ্যে ১৪ জন কিশোরী ও ২১ জন কিশোর রয়েছে, যারা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে বন্দি জীবন কাটিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।
ভারতের হরিয়ানা পুলিশের তৎপরতায় আটক হওয়া এসব কিশোর-কিশোরীকে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল চেকপোস্টে এনে বেনাপোলে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্বদেশ প্রত্যাবাসন আইনের আওতায় দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
ফেরত আসা কিশোর-কিশোরীদের তালিকায় রয়েছে: যশোরের আপন চন্দ্র সিংহ, আসমা খাতুন; রাজশাহীর আসমাউল হোসেন; নোয়াখালীর বিউটি রানি দেবনাথ; খুলনার রহমত আলি, জিয়াউর রহমান, রাখি সানা, আয়াত মোড়ল, রিমি মোড়ল; মুন্সিগঞ্জের তহমিনা আক্তার; বাগেরহাটের শাকিল হাওলাদার; গোপালগঞ্জের সম্রাট গুপ্ত, আকাশ হক; কুড়িগ্রামের শাহিনুর আলম, হানিফ আলি; নাটোরের দেবজিৎ রয়; দিনাজপুরের রাসেল বাবু, ফারিয়া খান; সাতক্ষীরার ইব্রাহিম; ময়মনসিংহের সফর শেখ; নড়াইলের আব্দুস সবুর; কক্সবাজারের আল আমিন, সালমা; ঢাকার সাজেদা ইয়াসমিন মুন্নি, জোহরা বেগম; নেত্রকোনার নাজমা খাতুন; রংপুরের ধিমান বারুই; মাদারিপুরের শ্রাবণ হোসেন, মিলি আক্তার; নরসিংদির রিফাত হোসেন; ঠাকুরগাঁওয়ের রিদয় রয়; ঝালকাঠির সিথি রয়; ও পঞ্চগড়ের প্রিয়ন্তি রয়।
তাদের গ্রহণে বেনাপোল সীমান্তে প্রস্তুত রয়েছে চারটি মানবাধিকার সংস্থা: জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইটস ও মানব উদ্ধার এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থা।
জানা গেছে, ফেরত আসা কিশোর-কিশোরীদের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। অনেকেই ভারতের হোমগুলোতে ২ বছর থেকে ৮ বছর পর্যন্ত আটক ছিল। দুই দেশের সরকারের যৌথ উদ্যোগে অবশেষে তারা দেশে ফিরছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ইয়াহিয়া বলেন, ‘চাকরির লোভ দেখিয়ে আমার মেয়েকে ভারতে পাচার করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমি বেনাপোলে এসেছি।’
মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম জানান, ‘আমাদের তথ্য অনুযায়ী ভারতে এখনও প্রায় ৫০ হাজার নারী-পুরুষ পাচারের শিকার হয়ে রয়েছে। আজ যাদের ফেরত আনা হচ্ছে, তাদের মধ্যে ছয়জনকে আমরা পুলিশের কাছ থেকে গ্রহণ করে আইনি সহায়তা দেব।’
শার্শা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘তাদের ফেরত আনার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রসহ ৩৫ জনের প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে।’