শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
রোজার বাকি মাত্র ৯ দিন, আর এর আগেই ছোলার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। তবে এবার ডলারের উচ্চ বিনিময়মূল্যের কারণে গত বছরের তুলনায় ছোলা কিনতে গুনতে হবে বেশি দাম। যদিও চাহিদার তুলনায় আমদানি বেড়েছে, তবুও রোজার বাজারে ছোলার দাম নিয়ে ভোক্তাদের মনে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
সরকারি ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, রমজানে দেশের ছোলার চাহিদা এক লাখ টন। অথচ এনবিআরের তথ্যমতে, গত তিন মাসে আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন ছোলা—যা গত বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি! ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণ সময়ে মাসে ১০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে। সেই হিসাবে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ৩০ হাজার টন বাদ দিলে এখনও বাজারে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ছোলা মজুত রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।
আমদানি বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ সুবিধা। জানুয়ারিতে আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বাকিতে আমদানির অনুমতি মেলে, যার মধ্যে ছোলা, ডাল ও মটর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সুযোগে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছোলা আমদানি করা যাবে, ফলে অনেক আমদানিকারক ছোলা আমদানিতে ঝুঁকেছেন।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ছোলা আমদানিকারক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, রমজানের আগেই আরও ছোলার চালান দেশে এসে পৌঁছাবে, তাই সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। আমদানি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আমদানি করা ছোলার ৯৬ শতাংশই এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, বাকি অংশ এসেছে ভারত থেকে। গড়ে প্রতি কেজি ছোলা ৭২ সেন্টে আমদানি করা হলেও মানভেদে এই খরচ ৬৮ থেকে ৮৮ সেন্ট পর্যন্ত উঠানামা করেছে।
তবে বাজার পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। খাতুনগঞ্জে গত বছর এ সময়ে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ছোলার দাম ছিল ৮০ থেকে ৯৬ টাকা, অথচ এবার তা বেড়ে হয়েছে ৯২ থেকে ১০৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, আমদানি বেশি হলেও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে, যা বাজারদরে প্রতিফলিত হচ্ছে।
রমজানের আগে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারগুলোতে ছোলার সরবরাহ শুরু হলেও অনেকেই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আগেভাগে ছোলা কিনছেন। তবে গত দুই বছর রমজানের মাসে ছোলার দামে বড় কোনো উত্থান-পতন হয়নি। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রোজার আগে ছোলার দাম ছিল ৭৫ টাকা, যা রোজার শুরুতে কমে ৭০ টাকায় নেমেছিল। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে রোজার মাসে ছোলার দামের তেমন পরিবর্তন হয়নি।
বহদ্দারহাটের খুচরা বিক্রেতা মুহাম্মদ ফরিদুল হকের মতে, গত কয়েক বছর রমজানের আগের তুলনায় রোজার সময় ছোলার দাম কিছুটা কমেছে। এবারও সেই ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে ভোক্তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না—রমজান এলে দাম কমবে, নাকি সরবরাহ বাড়ানোর পরও মুনাফার ফাঁদে আটকে থাকবে বাজার?