বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন পোশাক নিয়ম, বদলাবে অফিসের পরিবেশ!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এখন থেকে ফরমাল পোশাক পরিধানের নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নারী কর্মকর্তাদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না বা অন্যান্য পেশাদার শালীন পোশাক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শর্ট স্লিভ বা ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক এবং লেগিংস অফিসে পরা যাবে না। পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফরমাল শার্ট, প্যান্ট ও জুতা পরিধান করতে হবে, জিন্স বা গ্যাবার্ডিন প্যান্ট অফিসে নেওয়া যাবে না।
২১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে এই নতুন অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে এবং বুধবার তা সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে বিতরণ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় ফরমাল জুতা পরিধান, সাদামাটা হেডস্কার্ফ বা হিজাব পরার নিয়মকানুনও উল্লেখ করা হয়েছে। অফিসে এই নির্দেশনা মেনে চলার তদারকির জন্য একজন করে কর্মকর্তা মনোনীত করা হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন ফরমাল পোশাক পরে অফিসে উপস্থিত হন, তাই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পোশাক বৈষম্য দূর করারও লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হিজাব পরার বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয় বরং হিজাব পরার সুযোগ স্পষ্ট করা হয়েছে।
মুখপাত্র জানান, সাধারণত কেউ অশালীন পোশাক পরে অফিসে আসেন না, কিন্তু নতুন যোগদানকারীদের মধ্যে অনেকেই পোশাক নিয়ে অন্য নারী সহকর্মীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। পুরুষ কর্মকর্তারা অনেক সময় টি-শার্ট, জিন্স বা গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরে অফিসে আসেন, তাই ফরমাল শার্ট-প্যান্ট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর–৩ জাকির হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি এক বিভাগীয় মাসিক সভায় এই নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়। সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ থাকে, যৌন হয়রানি, আচরণ এবং পোশাক সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, নারী সহকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন, ২০০৩ মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে মানবসম্পদ বিভাগের গঠিত কমিটিতে তা পাঠাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সঠিক কর্মপরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে দাপ্তরিক শিষ্টাচার ও আচরণবিধি মানতে হবে, যার মধ্যে সততা, নৈতিকতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বপালন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।