মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন বিপর্যয় দেখিনি—চরম সংকটে রপ্তানি!
অনলাইন ডেস্ক
দেশের রপ্তানি খাতে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা—এমন মন্তব্য করেছেন দেশের অন্যতম রপ্তানিকারক, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা এ কে আজাদ। তাঁর ভাষায়, “চলতি সংকট এতটাই ভয়াবহ যে ৪০ বছরের ব্যবসা জীবনে এমন বিপর্যয় কখনও দেখিনি।”
রোববার (২০ জুলাই) ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক : কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে এ কে আজাদ জানান, ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর একটি যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে, যেখানে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতা চোখে পড়ার মতো। সেখানে সরকার নিজ উদ্যোগে লবিস্ট নিয়োগ করে প্রতিটি স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে এমন সহায়তা বা সমন্বয়ের কোনো সুযোগই পাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমার একজন বিদেশি ক্রেতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—বাংলাদেশের ওপর ১ তারিখ থেকে যে শুল্ক কার্যকর হবে, তা বাতিল না হলে আমাকে সেই শুল্কের ৩৫ শতাংশ নিজেই বহন করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আমি কিভাবে সেই শুল্ক সামলাব?”
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ও দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ কে আজাদ। বলেন, “আপনারা বলেছেন সাত-আট মাসের জন্য দায়িত্বে আছেন। এরপর তো আপনারা চলে যাবেন। আমাদের ভবিষ্যৎ তখন কে দেখবে? আমাদের কি আপনারা অনিশ্চয়তার গর্তে ফেলে রাখবেন?”
এর আগে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল—বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে, তা সরাসরি নির্ধারণ করছে না বাইডেন প্রশাসন বা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিস (USTR), বরং এ সিদ্ধান্ত আসছে ট্রাম্পপন্থী সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো থেকে। এ প্রেক্ষাপটেই সরকারকে উদ্দেশ করে এ কে আজাদ বলেন, “যদি আপনাদের পক্ষেই কিছু করা সম্ভব হয়, তাহলে অনুগ্রহ করে এই ইস্যুটি উচ্চ পর্যায়ে তুলুন।”