বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
অসাধু প্রতিষ্ঠান ঠেকাতে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাই সমাধান!
অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার (২০ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে প্রতিযোগিতা নীতি: সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তুলে ধরেন বর্তমান বাজার পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ন অভিমত। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম যোগসূত্র সৃষ্টি করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাজার থেকে নির্বাসিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্যের দাম কমিয়ে একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে, যা বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। এই ধরনের দুঃসাহসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, যারা ভোক্তাদের শোষণ করে ও ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও তৎপর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের অবশ্যই দেশের প্রতি দায়িত্ববোধে পরিচালিত হতে হবে। সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রেখে এবং জাতীয় সম্পদ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করে দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
প্রতিযোগিতা কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে এই কমিশনের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই কমিশনকে তার কার্যকর ক্ষমতা ফিরে এনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখতে হবে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বিগত ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা সংকুচিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সরকারি-বেসরকারি সকল খাতে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমানে রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও উন্নতির সূচনা হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেন, কমিশনের কাজ কেবল জরিমানা আরোপ নয়, বরং বাজারে অন্যায় প্রতিযোগিতার শিকার ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা দেওয়া তাদের মূল দায়িত্ব। তার লক্ষ্য হলো বাজারে গুটিকয়েক অসাধু সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন কমিশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর পরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের আইন সদস্য ড. আফরোজা বিলকিস, ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ইসাম মোসাদ্দেক এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি রহমান।
অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারাত্নে।