বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
উন্নয়ন বৈষম্যে ক্ষুব্ধ সরকার, দক্ষিণে আসছে দ্রুত পরিবর্তন!
অনলাইন ডেস্ক
নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে আর ঢিলেমি নয়—এবার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘিরে কিছু অস্বাভাবিকতা চলছে, যা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নাগরিক সেবা যেভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তাতে আর বসে থাকলে চলবে না। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ খুব শিগগিরই গ্রহণ করা হবে।”
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরোনো সভাকক্ষে ‘উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে নির্মাণাধীন পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “সরকার দক্ষিণ সিটির অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বিষয়টি একক সিদ্ধান্তের নয়। আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করি। রাজনীতিতে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হলে সকল পক্ষের দিক থেকেই দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। আমাদের পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়েও এটি নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত হলে আমিই বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেব।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে দ্রুত সমন্বিত আলোচনা হবে। দক্ষিণ সিটিতে কিছু সমস্যা থাকলেও, বাইরে থেকে নাগরিক সেবায় যেন বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কিছু এলাকায় কাঠামোগত উন্নয়ন পিছিয়ে আছে। এসব জায়গায় উন্নয়নের গতি বাড়ানো হবে। উত্তরাঞ্চলে শিক্ষা ও দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি, তাই সেসব অঞ্চলে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যক্রম জোরদার করা হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ঘাটতি মেটাতে সেখানে গুদাম ও প্রক্রিয়াকরণ জোন স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিস্তা নদীভাঙনে গৃহহীনদের পুনর্বাসনও অগ্রাধিকার পাবে।
রাজনৈতিক সুবিধাভোগের কারণে একেকটি এলাকায় উন্নয়নের পার্থক্য তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “এটা বন্ধ করতে হবে। গোপালগঞ্জের এক উপজেলার উন্নয়ন ও রংপুরের এক জেলার মধ্যে যে বৈষম্য আমরা দেখেছি, তা আর বরদাশত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছে। এই সময়ে ২৩ কোটি টাকায় ১১টি জেলায় ৪৪টি পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আমরা প্রত্যেক উপজেলায় এমন লাইব্রেরি গড়ে তুলতে চাই যা শুধু বইয়ের গুদাম নয়, বরং মানুষকে টানবে। যেন অন্য সরকারি ভবনের মতো অচল হয়ে না পড়ে।”