শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে শুধু ছবি নয়, সবকিছু হারাবেন
অনলাইন ডেস্ক
আজকাল শুধু একটি ই–মেইল নয়, গুগল অ্যাকাউন্ট যেন আমাদের পুরো ডিজিটাল জীবনের চাবিকাঠি! ইমেইল, ছবি, গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ নথি, ইউটিউব হিস্টোরি, এমনকি লোকেশন হিস্টোরি—সবকিছু এই একটাই অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত। তাই গুগল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়া মানে এক ঝটকায় ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক লেনদেন, এবং অনলাইন পরিচিতির ভয়াবহ বিপর্যয়! তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চললে সহজেই এ বিপদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।
চলুন জেনে নিই এমন ৬টি কার্যকর পরামর্শ, যা মেনে চললে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট থাকবে নিরাপদ ও হ্যাকারদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
“১২৩৪৫৬”, নিজের নাম, জন্মতারিখ বা “password” লিখে পাসওয়ার্ড রাখার দিন শেষ! আপনার গুগল অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখতে হলে প্রথম কাজ—একটি জটিল, ইউনিক ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা। এতে থাকা উচিত বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন (!, @, $, ইত্যাদি)। একাধিক অ্যাকাউন্টের জন্য এক পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করাই শ্রেয়। যদি মনে রাখা কষ্টকর হয়, তবে ব্যবহার করুন ভরসাযোগ্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার।
পাসওয়ার্ড দিয়ে কাজ শেষ নয়! গুগল অ্যাকাউন্টে “টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন” চালু রাখলে নতুন কোনো ডিভাইস থেকে লগইন করার সময় পাসওয়ার্ড ছাড়াও একটি কোড বা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপে নিশ্চিত হতে হয়। এই ফিচার হ্যাকারদের ঠেকাতে একেবারে দারুণভাবে কাজ করে। তাই আজই চালু করুন এই সুবিধা।
কখনো কি অন্যের কম্পিউটার থেকে গুগল অ্যাকাউন্টে ঢুকে পরে সাইন আউট করতে ভুলে গেছেন? এমন ভুল একবারই যথেষ্ট অ্যাকাউন্ট হ্যাকের জন্য। তাই নিয়মিত ‘Your Devices’ অপশনে গিয়ে দেখুন কোথায় কোথায় আপনার অ্যাকাউন্ট লগইন করা আছে। অচেনা বা অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো থেকে এক ক্লিকেই সাইন আউট করুন।
অনেক ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ‘Sign in with Google’ ব্যবহার করি আমরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অ্যাপগুলো ব্যবহারও বন্ধ হয়ে যায়। অথচ আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে তারা হয়তো এখনও তথ্য টানছে! গুগলের সেটিংসে গিয়ে দেখে নিন কোন কোন অ্যাপে আপনি অনুমতি দিয়েছেন, আর যেগুলোর আর দরকার নেই—সেগুলোর অনুমতি একদম কেটে দিন।
ক্যাফে, এয়ারপোর্ট বা হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে গেলে বিপদ বাড়ে কয়েকগুণ। হ্যাকাররা এই নেটওয়ার্কে সহজেই প্রবেশ করে আপনার তথ্য চুরি করতে পারে। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় অবশ্যই ভালো মানের VPN (Virtual Private Network) ব্যবহার করুন। এটি আপনার তথ্য এনক্রিপ্ট করে দেয়, ফলে হ্যাকাররাও অসহায় হয়ে পড়ে।
আপনার ইনবক্সে একদিন হঠাৎ দেখা গেল এক অচেনা ই-মেইল—সেখানে বলা হয়েছে আপনি লটারিতে জিতেছেন, শুধু একটা লিংকে ক্লিক করতে হবে! এমন বার্তা মানেই ফাঁদ। এগুলো ক্লিক করলেই ফিশিং স্ক্যামের শিকার হয়ে যাবেন আপনি। তাই যেকোনো সন্দেহজনক ই-মেইল বা এসএমএসের লিংক থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গুগল অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখতে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, দরকার সচেতনতা। উপরের ৬টি পরামর্শ মেনে চললে আপনার তথ্য থাকবে সুরক্ষিত, জীবন থাকবে শান্ত। এখনই এগুলো কার্যকর করুন, নিজের ডিজিটাল পরিচয় নিজেই রক্ষা করুন।
সূত্র: অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ