বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
✨ কম সিজিপিএ, জব মার্কেটে হতাশা—তবু সোজা সিলিকন ভ্যালিতে! চট্টগ্রামের ইরফানের সাহসী গল্প আপনাকেও বদলে দিতে পারে ✨
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামের এক মফস্বল গ্রামের ছেলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কম সিজিপিএ, দেশে বেকার জীবনের যন্ত্রণা—সব পেছনে ফেলে এখন তিনি আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির নামকরা এআই প্রতিষ্ঠান অ্যাস্টেরা ল্যাবসের ইলেকট্রিক্যাল প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার! তিনি মো. ইরফান উদ্দীন—চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী, যিনি এখন বার্ষিক প্রায় ৩.৫ কোটি টাকার বেতনে প্রযুক্তি দুনিয়ার প্রাণকেন্দ্রে কাজ করতে যাচ্ছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিং থেকে মাস্টার্স শেষ করার আগেই ইরফান শুরু করেন চাকরি খোঁজা। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে আলাদা সময় রেখেছিলেন চাকরির আবেদন আর ইন্টারভিউয়ের জন্য। মে মাসেই কপাল খুলে যায়। প্রথম অফার পান টেক্সাসের একটি কোম্পানি থেকে। এরপর আসে আরও দুটো অফার—একটি ফক্সকন, অন্যটি অ্যাস্টেরা ল্যাবস।
অ্যাস্টেরার জন্য দিতে হয়েছিল ৯টি ইন্টারভিউ। এর মধ্যে ৭টি ছিল একটানা ৫ ঘণ্টার অনসাইট টেকনিক্যাল ইন্টারভিউ, যার জন্য তাকে যেতে হয়েছিল ওয়াইয়োমিং থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায়। মানসিক প্রস্তুতি না থাকলে এই ইন্টারভিউগুলো সামাল দেওয়া কঠিন।
চাকরির অফার লেটারে লেখা, ইরফান বছরে পাবেন প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা। প্রথম মাসের বেতনের সঙ্গেই থাকবে প্রায় ৩০ লাখ টাকার সাইনিং বোনাস! সঙ্গে থাকছে স্টক অপশন, হেলথ ইনস্যুরেন্সসহ আরও নানা সুবিধা।
চাকরির দরকষাকষির সময় একটা কৌশল কাজে লেগেছে বলে জানান ইরফান। প্রথমে যেখানে নিজেই বেতনের পরিমাণ বলে দিতেন, পরবর্তী সময়ে তিনি আগে জানতে চেয়েছেন—এই পদের জন্য বেতনের পরিসীমা কত? এতে করে উচ্চ বেতন চাওয়া সহজ হয়েছে।
চুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২.৯৮ সিজিপিএ নিয়ে পাস করা ইরফানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ পাওয়া। কারণ, ফুল ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সিজিপিএ সাধারণত ৩.৫ বা তার বেশি থাকা জরুরি। তাছাড়া ইরফানের কোনো গবেষণাপত্রও ছিল না।
তবুও হাল না ছেড়ে তিনি মন দেন জিআরই প্রস্তুতিতে। পান ৩৩১ স্কোর, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্কলারশিপ পাওয়া অনেকের জন্যই ঈর্ষণীয়। এই স্কোরই তাকে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ করে দেয়, তাও ফুল ফান্ডিংয়ে।
চুয়েট থেকে পাস করার পর ইরফান দেশে চাকরির জন্য অনেক ঘুরেছেন। কিছুদিন বেকার থাকার পর চাকরি পান ওয়ালটনে। সেই অভিজ্ঞতাই নাকি তাকে বিদেশে চাকরি পেতে সাহায্য করেছে। “অনেকে ভাবেন বাংলাদেশের কাজের অভিজ্ঞতা বিদেশে কোনো কাজে আসে না—কিন্তু এটা ভুল। সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে, সেটা অনেক মূল্য রাখে,” বলেন ইরফান।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ধর্মপুর গ্রামের ছেলে ইরফান এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে যেতে ধাক্কা খান সিজিপিএতে। কিন্তু থেমে যাননি। নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে গেছেন। আমেরিকায় মাস্টার্স করার স্বপ্ন ছিল বলেই প্রতিদিনের ক্লান্তিকর রুটিনের মাঝেও সময় বের করে আবেদন করেছেন হাজারের বেশি কোম্পানিতে। ফল এসেছে ধৈর্যের প্রতিদান হিসেবে।
ইরফান উদ্দীনের মতোই হয়তো আপনারও কোনো স্বপ্ন আছে। এই গল্প আপনাকে মনে করিয়ে দেবে—স্বপ্ন যদি সত্যি করতে চান, তবে সাহস, ধৈর্য আর কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। 💪🌍