শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
সরকার এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও বেসরকারি স্কুল-কলেজের বেতন বা টিউশন ফি ছাড়া অন্যান্য ফি নির্ধারণ করেছে। এই ফি চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো মাধ্যমিক (এমপিওভুক্ত), মাধ্যমিক (নন-এমপিও), কলেজ (এমপিওভুক্ত) এবং কলেজ (নন-এমপিও)।
মহানগরের স্কুলগুলোর বেতন বা টিউশন ফি নির্ধারণ করবে মহানগর কমিটি। জেলা সদর, পৌর এলাকা ও উপজেলার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণ করবে জেলা কমিটি। নির্ধারিত বেতন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ২০২৪ সালের টিউশন ফি নীতিমালায় এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নীতিমালা পরিপত্র আকারে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নীতিমালা ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মহানগর, জেলা সদর, পৌরসভা, উপজেলা সদর এবং মফস্সল শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। মহানগর, জেলা, উপজেলা ও মফস্সলের স্কুলের ফি নির্ধারণ
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মহানগরের (সিটি করপোরেশন এলাকা) এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোর ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বেতন বা টিউশন ফি ছাড়া অন্যান্য ২৩ খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে সর্বমোট ২,৪৬৫ টাকা আদায় করা যাবে। এই ফি’র মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা প্রতি পত্রে ৪০ টাকা, টিফিন মাসে ১৫০ টাকা, মুদ্রণ বছরে ২০০ টাকা, ম্যাগাজিন ৭৫ টাকা, ক্রীড়া ১৫০ টাকা, সাংস্কৃতিক উৎসব ৭৫ টাকা, জাতীয় দিবস উদ্যাপন ৭৫ টাকা, ক্লাব গঠন ২৫ টাকা, লাইব্রেরি ২০ টাকা, কল্যাণ/দরিদ্র তহবিল ২৫ টাকা, আইসিটি (মাসে ২০ টাকা হিসেবে) ২৪০ টাকা, বাগান ৬০ টাকা, ল্যাবরেটরি (যেখানে প্রযোজ্য) ৪০ টাকা, কমনরুম ৩০ টাকা, পরিচয়পত্র ৫০ টাকা, নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা ৫০ টাকা, চিকিৎসা ১০ টাকা, বিবিধ ৫০ টাকা, উন্নয়ন খাত ১,০০০ টাকা, বিদ্যুৎ ৩০ টাকা, শিক্ষাসফর ৫০ টাকা এবং সাঁতার প্রশিক্ষণ ১০ টাকা।
জেলা সদর, পৌর এলাকা ও উপজেলার এমপিওভুক্ত স্কুলের ফি কিছুটা কম। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন ছাড়া অন্যান্য খাতে বছরে মোট ১,৮৫০ টাকা দিতে হবে। মফস্সলের এমপিওভুক্ত স্কুলের ক্ষেত্রে তা হবে ১,৪০৫ টাকা।
মহানগরের নন-এমপিও স্কুলের শিক্ষার্থীদের বেতন ছাড়া অন্যান্য খাতে বছরে ৪,০২৫ টাকা দিতে হবে। জেলা সদর, পৌর ও উপজেলার নন-এমপিও স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে খরচ হবে ২,৭০৫ টাকা এবং মফস্সলের নন-এমপিও স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে তা ১,৮৬০ টাকা হবে।
মহানগরের এমপিওভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা বছরে ২৬টি খাতে বেতন বা টিউশন ফি ছাড়া মোট ৩,৬৬০ টাকা পরিশোধ করবে। জেলা সদর, পৌরসভা ও উপজেলার এমপিওভুক্ত কলেজের ক্ষেত্রে এ ফি হবে ২,৫৭৫ টাকা। মফস্সলের এমপিওভুক্ত কলেজের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ১,৬৪৫ টাকা দেবে।
মহানগরের নন-এমপিও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা বেতন ছাড়া অন্যান্য খাতে বছরে ৪,৩৩০ টাকা পরিশোধ করবে। জেলা সদর, পৌরসভা ও উপজেলার নন-এমপিও কলেজে এ ফি ২,৯৯৫ টাকা এবং মফস্সলের নন-এমপিও কলেজে ১,৯৯০ টাকা হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে টিউশন ফি নির্ধারণে কমিটি গঠন করতে হবে। মহানগর কমিটি ১০ সদস্য বিশিষ্ট হবে এবং এর সভাপতি হবেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি/সার্বিক)। কমিটির সদস্যসচিব হবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপপরিচালক। জেলা সদর, পৌর ও উপজেলা সদরের কমিটি ৭ সদস্য বিশিষ্ট হবে এবং এতে সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক এবং সদস্যসচিব হবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রতি বছর অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে কমিটির সভাপতিকে জানাবেন। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হবে। আদায়কৃত অর্থ নির্দিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের হিসাবে জমা রাখতে হবে এবং তা অবশ্যই খাতভিত্তিক খরচ করতে হবে। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে খরচ করা যাবে না।