শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্য সরকারের সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। টিউলিপের এই পদক্ষেপের পর স্টারমার তাঁকে একটি চিঠি লিখে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
কিয়ার স্টারমারের চিঠিতে টিউলিপকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ‘আপনার (টিউলিপ) জন্য দরজা সবসময় খোলা থাকবে।’
তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন, দুঃখের সঙ্গে হলেও তিনি টিউলিপের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী (ইকোনমিক সেক্রেটারি) হিসেবে তাঁর অবদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
স্যার কিয়ার স্টারমার আরও বলেছেন, ‘আমি আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছি। তবে এখানে স্পষ্ট করতে চাই যে মন্ত্রিত্বের বিধি (মিনিস্ট্রিয়াল কোড) লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একজন স্বাধীন উপদেষ্টা হিসেবে লাউরি ম্যাগনাস আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, টিউলিপের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়মের প্রমাণও মেলেনি।’
টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের জন্য নিজেই লাউরি ম্যাগনাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এজন্য কিয়ার স্টারমার তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা ব্রিটেনকে বদলে দেওয়ার কাজ করছি, সেই কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর চলমান ঘটনাপ্রবাহের অবসান ঘটানোর জন্য আপনার এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। আপনি কঠিন একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভবিষ্যতের জন্য আমি স্পষ্ট করছি যে আপনার জন্য সবসময় দরজা খোলা থাকবে।’
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। লন্ডনে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির মালিকানাধীন ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিক ব্যবহারের বিষয়টিও দেশটির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এসব সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সরকারের সিটি মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার) পদ থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ। তিনি লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে টানা চতুর্থবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত বছরের নির্বাচনের পর জুলাই মাসে তাঁকে লেবার পার্টি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।