বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
ইউরোপের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের মতে, পৃথিবী টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য প্রায় নিশ্চিতভাবে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। এই বছরের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রথমবারের মতো প্রাক-শিল্পযুগের গড় তাপমাত্রার তুলনায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস (২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি হয়েছে। কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) জানিয়েছেন, ‘একটানা উষ্ণতার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
বুওনটেম্পো আরও বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির কারণেই এই ধরনের রেকর্ড তাপমাত্রা সম্ভব হয়েছে। এটি ছাড়া এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেত না।’
বিগত বছর এবং চলতি বছরের অভূতপূর্ব তাপমাত্রার পেছনে আরও কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে এল নিনো- প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে অস্থায়ী উষ্ণতা, যা বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। আরও একটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কিছু আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, যা বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ও সৌর শক্তির পরিবর্তন ঘটায়। তবে কার্লো বুওনটেম্পো ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী এল নিনো তাপমাত্রার বৃদ্ধির একটি বিপজ্জনক ইঙ্গিত।
২০২৩ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। বিজ্ঞানীরা পূর্বেই বলেছিলেন, এল নিনোর ফিরে আসা ২০২৪ সালকে আরও বেশি উষ্ণ করে তুলতে পারে।
কয়েকদিন পরেই আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ২৯। এই বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
পরিষ্কার শক্তির ব্যবহার, যেমন বায়ু ও সৌর শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে বিশ্বকে পুনর্গঠিত করতে এবং ক্রমাগত উষ্ণতা এড়ানোর জন্য কিভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল সৃষ্টি করা যায় তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে উল্লেখযোগ্যভাবে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: টাইম