রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
আসন্ন নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। এনবিসি নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা প্রায় সমান তালে চলতে দেখা গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে হ্যারিস এবং ট্রাম্প দুজনই সমানভাবে ৪৮ শতাংশ করে সমর্থন অর্জন করেছেন। নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকতে দুজনের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমানতালে চলছে।
এনবিসি এই জরিপটি পরিচালনা করেছে ৪ থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে। এতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প যে ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন, তা সম্পূর্ণভাবে কাটিয়ে উঠেছেন। বিপরীতে, হ্যারিসের জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক জরিপকারক জেফ হরউইট বলেছেন, ‘গ্রীষ্মকাল থেকে শরতে প্রবেশের সময় কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির যে গতি ছিল, তা থেমে গেছে’।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান জরিপকারক বিল ম্যাকইন্টারফের মন্তব্য, ‘এখন ভোটারদের উদ্দীপ্ত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে কোন দল তাদের সমর্থকদের সফলভাবে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে, তার ওপর। যদি ডেমোক্রেটিক দলের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে নারীদের সংখ্যা বেশি, কলেজ ডিগ্রিধারী শ্বেতাঙ্গ ভোটার এবং বর্ণগত সংখ্যালঘুরা বেশি ভোট দেয়, তবে হ্যারিস ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ৪৬ শতাংশ সমর্থন পাওয়া ট্রাম্পকে পরাজিত করতে পারবেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের জন্য বেশি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে—যেখানে পুরুষদের সংখ্যা বেশি এবং কলেজ ডিগ্রিহীন শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের অংশগ্রহণ বেশি থাকে—তাহলে ট্রাম্প ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়ে ৪৭ শতাংশ সমর্থন পাওয়া হ্যারিসকে পরাজিত করবেন।
ভোটারদের আলোচনায় মূল বিষয় হিসেবে গর্ভপাতের অধিকার, সীমান্ত ও অভিবাসন, গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমলা হ্যারিস গর্ভপাতের অধিকারে ট্রাম্পের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন। তাছাড়া, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ১০ পয়েন্ট এবং দক্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প ২৫ পয়েন্টে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৮ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
যদিও উভয় প্রার্থীরই নেতিবাচক জনপ্রিয়তা রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, হ্যারিসের ৪৩ শতাংশ ইতিবাচক এবং ৪৯ শতাংশ নেতিবাচক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশ ইতিবাচক এবং ৫১ শতাংশ নেতিবাচক। দুই দলের প্রচার অভিযান এখন মূলত ভোটারদের উৎসাহ বাড়ানোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রচারণা দল তাদের একটি স্মারক নোটে বলেছে, তারা জুলাইয়ে যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী হ্যারিসের ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ হয়েছে। তাদের দাবি, হ্যারিস অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি, অভিবাসন এবং অপরাধ দমনে ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যেখানে ট্রাম্প এই সব ক্ষেত্রেই ভালো করবেন বলে ভোটারদের ধারণা।
সিবিএস নিউজ ও এবিসি নিউজের জরিপেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর দেখা যাচ্ছে। সিবিএসের জরিপে হ্যারিস মাত্র ৩ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও, এটি এখনও ভুলের সীমার মধ্যে।
এবিসি নিউজের জরিপ অনুসারে, হ্যারিস মাত্র ২ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে নিবন্ধিত ভোটারদের সমর্থন ৪৯-৪৭ শতাংশের ব্যবধানে রয়েছে।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, নির্বাচনের ফলাফল এখনো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মতামতই নির্ধারণ করবে কে হোয়াইট হাউসে বসবেন।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট