রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
চলচ্চিত্র জগৎ নিয়ে মানুষের প্রচলিত ধারণা হলো, শুধু তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী ও প্রযোজকরাই প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। সেই জায়গায় আলোচনায় থাকেন কেবল হাতে গোনা কয়েকজন চিত্রপরিচালক। এমনটা দেখা যায় দেশীয় চলচ্চিত্র, বলিউড এবং হলিউডে। তবে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী চলচ্চিত্র সেলিব্রিটি একজন চলচ্চিত্র পরিচালকই।
এই পরিচালক হলেন হলিউডের জর্জ লুকাস, যার সম্পত্তির পরিমাণ ৯৪০ কোটি ডলার। যদিও তিনি জীবনে মাত্র ছয়টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন এবং গত দুই দশকে কোনো নতুন ছবি পরিচালনা করেননি। এই ধনী পরিচালকই ‘স্টার ওয়ার্স’ ও ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’ সিরিজের স্রষ্টা। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লুকাসের সম্পদের পরিমাণ ৭৭০ কোটি ডলার। অন্য সূত্রে জানা যায়, এই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, যা ৯৪০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
জর্জ লুকাস সম্পদে জে জেড, ম্যাডোনা, টেলর সুইফট ও রিহানার মতো তারকাদেরও ছাপিয়ে গেছেন। মজার বিষয় হলো, লুকাস জীবনে পরিচালনা করেছেন মাত্র ছয়টি চলচ্চিত্র। তার ছবিগুলো হলো: ‘টিএইচএক্স ১১৩৮’ (১৯৭১), ‘আমেরিকান গ্রাফিতি’ (১৯৭৩), এবং ‘স্টার ওয়ার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজের চারটি ছবি, যার মধ্যে ১৯৭৭ সালের প্রথম চলচ্চিত্র ও প্রিক্যুয়েল ট্রিলজি অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭১ সালে ২৭ বছর বয়সে ‘টিএইচএক্স ১১৩৮’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন লুকাস। ছবিটি প্রথমে তেমন সাড়া ফেলতে না পারলেও পরে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এরপর ‘আমেরিকান গ্রাফিতি’ও হিট করে। তবে ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার ‘স্টার ওয়ার্স’ তাকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়। তার শেষ পরিচালিত ছবি ছিল ‘স্টার ওয়ার্স: এপিসোড থ্রি – রিভেঞ্জ অফ দ্য সিথ,’ যা মুক্তি পায় ২০০৫ সালে।
জর্জ লুকাসের এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করে বিবিসির একটি প্রতিবেদন বলছে, তার নেতৃত্বগুণ, সুদূরপ্রসারী ভিশন, এবং সেই ভিশন বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের সঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষমতা এর পেছনে রয়েছে। লুকাসের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লুকাসফিল্মে বিভিন্ন বিভাগ প্রায়ই একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করত। যেমন, কম্পিউটার বিভাগ বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা গেম ডেভেলপমেন্ট দলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করত।
লুকাসফিল্মের ভিএফএক্স এবং অ্যানিমেশন স্টুডিও ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট অ্যান্ড ম্যাজিকেও কর্মীদের একটি নির্দিষ্ট কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন প্রজেক্টে সমান দক্ষতায় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতো। এতে কর্মীরা কোনো এক কাজে আটকে না থেকে বিভিন্ন প্রজেক্টে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পেতেন। এমন কৌশলে জনবল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রচণ্ড সাহস, যা লুকাসের ব্যক্তিত্বের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।