সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন
সৌদি বক্স অফিসে ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে হাজার কোটি টাকায়। এ সময় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ৮৫ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা থেকে দেশটি ৪২০ মিলিয়নেরও বেশি সৌদি রিয়াল উপার্জন করেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। দীর্ঘ ৩৫ বছরের নাটক ও সিনেমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সৌদি আরবের সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন ফারহান আল-সৌদ গত মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, ২০২৪-এর প্রথমার্ধে সৌদি বক্স অফিস আয় করেছে ৪২১ দশমিক ৮ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল। শীর্ষ আয়কারী তিনটি সিনেমার মধ্যে দুটি ছিল সৌদি প্রযোজনায় নির্মিত।

২০১৮ সালে ‘ভিশন ২০৩০’ উদ্যোগের আওতায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিনোদন খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ওই বছরই এএমসি সিনেমা হলে ব্ল্যাক প্যানথার প্রদর্শিত হয়। সৌদি আরবের জেনারেল কমিশন ফর অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া (জিসিএএম) অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত দেশটির সিনেমা শিল্প থেকে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের বেশি আয় হয়েছে। প্রথম বছরে এই আয় ছিল মাত্র ২০ লাখ ডলার।
গত পাঁচ বছরে টম ক্রুজ অভিনীত ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ সবচেয়ে বেশি আয় করেছে—৮ কোটি ৪০ লাখ রিয়ালের বেশি। এর পরই আছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’ এবং ‘মিশন: ইম্পসিবল-ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান’।
সৌদি সিনেমাও পিছিয়ে নেই। সিনেমার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগেই তিন সৌদি যুবক আল ফাদান, ইব্রাহিম আল খাইরুল্লাহ ও আলী খালতামি মিলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘তেলফাজ ১১’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই মুক্তি পায় সৌদির প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘সাত্তার’। মুক্তির প্রথম ১২ দিনে সিনেমাটি ২২ লাখ ডলার আয় করে এবং ৯ লাখ ৩০ হাজার দর্শক আকর্ষণ করে। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ১১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা সৌদি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তেলফাজ তাদের দ্বিতীয় সিনেমা ‘মানদুব’ মুক্তি দেয় চলতি বছরের শুরুতে, যা বক্স অফিসে সাফল্য পায়। আলী খালতামির পরিচালনায় নির্মিত এই কমেডি থ্রিলারটি টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসা অর্জন করে।
চলচ্চিত্র উৎসবের দিক থেকেও সৌদি আরবের সিনেমা দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। এবারের কান উৎসবে তৌফিক আলজায়েদির ‘নোরাহ’ সিনেমাটি স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। এটি ছিল সৌদি আরবের প্রথম অংশগ্রহণ, এবং এটি দেশটির চলচ্চিত্রের জন্য এক বিশাল মাইলফলক।