শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
বরেণ্য অভিনেতা মাসুদ আলী খান আজ বিকেলে ঢাকায় নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাগনের স্ত্রী শারমিনা আহমেদ।
বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। চিকিৎসার জন্য কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গ্রিন রোডের নিজ বাসায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
মঞ্চে অভিনয় দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র চালু হওয়ার পর ছোট পর্দায় অভিষেক ঘটান তিনি। চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৫০০ নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে বাংলা নাটকের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।
মাসুদ আলী খানের জন্ম ১৯২৯ সালের ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের পারিল নওধা গ্রামে। বাবা আরশাদ আলী খান সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন এবং মা সিতারা খাতুন। মাসুদ আলী খান ১৯৫২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। দুই বছর পরে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার পরপর নূরুল মোমেনের নাটক ‘ভাই ভাই সবাই’ দিয়ে ছোট পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এছাড়া সাদেক খানের ‘নদী ও নারী’ চলচ্চিত্র দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন।
মাসুদ আলী খান ১৯৫৫ সালে তাহমিনা খানকে বিয়ে করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চাকরিরত অবস্থায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে একাধিক বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে ইতিহাস রচনা করেছেন মাসুদ আলী খান।