শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবাহে উড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ছাড়াল ২১ বিলিয়ন ডলার!
দেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর—প্রবাসীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভ এখন ২১.৪০ বিলিয়ন ডলার বা ২,১৪০ কোটি ডলার, যা অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোববার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৬০ বিলিয়ন ডলার বা ২,৬৬০ কোটি ডলার। তবে আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী (বিপিএম-৬ পদ্ধতি) প্রকৃত রিজার্ভ ২১.৪০ বিলিয়ন ডলার।
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে রিজার্ভ আরও বেড়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৬.১৩ বিলিয়ন ডলার, বিপিএম-৬ অনুযায়ী যা ছিল ২০.৯০ বিলিয়ন ডলার। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম চালিকা শক্তি হচ্ছে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসীরা ২.৫৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় ইতিবাচক প্রবণতা দেখাচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও বেড়ে ৩.৯৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৭৭% বেশি।
বিগত সরকারের সময়ে ব্যবহারের জন্য উপযোগী রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়ানো হলেও চাপ ছিল প্রবল। কিন্তু বর্তমান সরকার এই পদ্ধতি বাদ দিয়ে নিজস্ব উৎস থেকেই রিজার্ভ বৃদ্ধিতে নজর দিচ্ছে। ফলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানির প্রবাহ বজায় থাকায় রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধান তিনটি উপাদান হলো প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয় ও বিদেশি ঋণ। এর মধ্যে একমাত্র দায়বিহীন উৎস হলো প্রবাসী আয়—যা বাড়লে রিজার্ভ বাড়ে, কিন্তু কোনো ঋণের দায় তৈরি হয় না। অন্যদিকে রপ্তানির আয় বাড়লেও কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ডলার খরচ করতে হয়। বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও ডলার লাগে। তাই প্রবাসী আয়ের এই রেকর্ড পরিমাণ প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালে প্রবাসী আয়ের এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। ওই বছর ব্যাংকিং চ্যানেলে সর্বোচ্চ ২৬.৮৯ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, সামনের মাসগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা কতটা অব্যাহত থাকে