সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
সরকারি তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্প্রতি বাতিল করা প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডগুলো, প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেকোনো পেশাদার সাংবাদিক মনে করলে তাঁর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল অন্যায়ভাবে হয়েছে, তিনি বিষয়টি লিখিত আকারে জানাতে পারবেন। এরপর তথ্য অধিদপ্তর সেই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
আজ বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে জানানো হয়।
সম্প্রতি পিআইডি তিন ধাপে ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে। এই উদ্যোগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র রক্ষায় বাধা বলে মত প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। পরিষদের সভাপতি মাহ্ফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তারা জানান, পিআইডির এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক পেশাদার ও সক্রিয় সাংবাদিক এবং এমনকি কিছু সম্পাদকের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা সম্পাদক পরিষদকে গভীরভাবে চিন্তিত করেছে। একই সঙ্গে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এ পদক্ষেপের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সহযোগিতা করার জন্য তথ্য অধিদপ্তর নিয়মিত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান করে থাকে। তবে সম্প্রতি নীতিমালার আলোকে কিছু কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কার্ড বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে কার্ড নবায়ন না করা, নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত কার্ড প্রাপ্তি, অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে ফায়দা তোলা, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করা, ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া, বিভিন্ন কারণে গ্রেপ্তার বা কারাবাস, পেশাদারিত্বের অভাব, রাজনৈতিক বিবেচনায় কার্ড গ্রহণ, সরকারি তথ্য ফাঁস করা, এবং অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতিবাচক ভূমিকা রাখা, উসকানি দেওয়া, ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং গুজব ছড়ানোর মতো বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তবে তথ্য অধিদপ্তর এই বাতিল করা কার্ডগুলো প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।