শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
সোমবার (২ ডিসেম্বর) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার উত্তর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে। হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা এই অরাজকতায় জড়িত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইন ও বিচারবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি সোমবার রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমানাধিকার ভিত্তিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
আসিফ নজরুল লিখেছেন, “আজ ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের ওপর হামলা চালিয়ে তা তছনছ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা এই লজ্জাজনক কাজটি করেছে। আমি প্রশ্ন করতে চাই, এই ধরনের কোনো ঘটনা যদি ‘মুসলিম সংঘর্ষ সমিতি’ নামে কোনো সংগঠন বাংলাদেশে করত, তবে ভারত কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাত?”
তিনি আরও লেখেন, “এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ভারতীয় সরকারের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের হাইকমিশনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু তারা এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি।”
পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লেখেন, “ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর জন্য ভারতের (এবং মমতার) লজ্জিত হওয়া উচিত। অথচ মমতা উল্টো অন্যকে দোষারোপ করছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “ভারতকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সমমর্যাদা ও সমানাধিকারভিত্তিক বন্ধুত্বে বিশ্বাস করে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকার লোভে ভারত-তোষণ নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নয়। এই বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদায় বলীয়ান। এই দেশের মেরুদণ্ড শক্তিশালী এবং তরুণ প্রজন্ম নির্ভীক।”