সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাইভেট সেক্টর বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান কারাগারে থেকেও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। যেখানে সালমান এফ রহমান বন্দি রয়েছেন, সেখানে মোবাইল জ্যামার বসানো রয়েছে।
সূত্র মতে, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনগণের আন্দোলনের মুখে সালমান এফ রহমান আত্মগোপনে চলে যান। বেশ কিছু দিন আত্মগোপনে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ পালানোর সময় রাজধানীর সদরঘাট থেকে গ্রেফতার হন। পরে রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এরপর রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে তিনি কারাগারে যান। কারাগারে থাকার সময় তিনি ডিভিশন পান। ডিভিশন সুবিধা পাওয়ার ফলে, সাধারণ বন্দিদের তুলনায় বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন তিনি, যেমন চেয়ার, টেবিল এবং খাট।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই খবর পাওয়া যায় যে, তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন এবং শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি তার মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় তিনি বিদেশেও সহজেই যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অসাধু কারারক্ষীদের সহযোগিতায় এই সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন বলেন, ‘কারাগারের ভেতর থেকে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথা নয়। তবে আপনারা যেহেতু এমন তথ্য দিয়েছেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।’ তিনি আরও জানান, ‘সালমান এফ রহমানকে এমন একটি জায়গায় রাখা হয়েছে যেখানে জ্যামার রয়েছে এবং ফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই।’
সাবেক ডিআইজি প্রিজনস ও কারাগার বিশেষজ্ঞ মেজর (অব.) সামছুল হায়দার ছিদ্দিকী বলেন, ‘বন্দিরা কারাগারের দায়িত্বে থাকা কিছু অসাধু কর্মীর মাধ্যমে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ পান। একজন কারারক্ষী যদি কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ২০-৩০ হাজার টাকা পান, তা তার জন্য অনেক বড় প্রলোভন। অথচ প্রভাবশালী বন্দিদের জন্য এটি তেমন কোনো বড় ব্যাপার নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা। এ ছাড়া প্রভাবশালী বন্দিদের নির্দিষ্ট সময় পরপর তাদের কক্ষ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কোনো কারারক্ষী এমন অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এর আগেও ২০২১ সালের জুলাই মাসে কারাগারে বসে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিন জুম মিটিং করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আটজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২২ সালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেলে থাকা সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনা প্রকাশ পায়। পরে কারাগারে অভিযান চালিয়ে ওই ফোন উদ্ধার করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কারা কর্মকর্তাদের দাবি, মোবাইল ফোন কিংবা মাদক উদ্ধারে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হলেও কিছু অসাধু কর্মীর মাধ্যমে এ ধরনের জিনিস বন্দিদের কাছে পৌঁছে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বন্দিদের কাছে মোবাইল পৌঁছে দেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা জ্যামার বন্ধ করে দেন।’
সূত্র বলছে, নতুন আইজি প্রিজনস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কড়াকড়ি আরোপ করলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা তার অগোচরে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিআইডি জানিয়েছে, রপ্তানি বাণিজ্যের নামে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং তার ভাই চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সূত্র: কালের কণ্ঠ।