সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
জাহিদ হাসান, জামালপুর
জামালপুরে বেসরকারি এমএ রশিদ (প্রা: লি:) হাসপাতাল ও বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হামলা ও ভাংচুরে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে সোমবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামালপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম (পিপিএম সেবা) সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান।
গত ২৮ নভেম্বর গভীর রাতে হাসপাতালের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা শীববীর আহাম্মদ ও মো. শাহীনের সঙ্গে কথিত সন্ত্রাসী এম শুভ পাঠানের বাকবিতণ্ডা ঘটে। এর জের ধরে শুভ পাঠান ও তার সহযোগীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয়ংকর হামলা চালায়। তারা হাসপাতালের ভেতরে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে।
পরবর্তীতে, একই দলের সদস্যরা গেইপাড়ায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এমনকি শাহীনের বাড়িতেও হামলা ও ভাংচুর চালায় তারা।
এই নাশকতার ঘটনায় শীববীর আহাম্মদ ও মো. শাহীন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৪৮ ও ৪৯। পুলিশ সুপার জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা গুলশান-২ এর একটি অভিজাত হোটেলে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপারের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আনোয়ার, সোহেল রানা, ডিআইও-১ মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, ডিআইও-২ শফিকুল ইসলাম সম্রাটসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, “এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। গ্রেফতারকৃতদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
এই ঘটনায় পুরো জেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।