শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিশাল আন্দোলন আওয়ামী দমনপীড়নকে প্রতিহত করেছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই পরাজিত শক্তি আবার পুনরুত্থান ঘটাতে না পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান। স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে তারেক রহমান এ বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, “৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯০ সালের এই দিনটি দীর্ঘ নয় বছরের ত্যাগ, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের সাক্ষী। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ সামরিক ক্ষমতার মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তারকে সরিয়ে, শপথ ভঙ্গ করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্থবির করে দিয়েছিল। স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক উদ্যোগকে ধ্বংস করেছিল। এরশাদ তার শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি দুর্বল করেছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার হয়েছিল। এই দিন ছাত্র-জনতার মিলিত শক্তি স্বৈরাচারকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিল। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও ছাত্র-জনতার উত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শক্তিকে পরাস্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সবসময় গণতন্ত্রের চরম শত্রু হিসেবে কাজ করেছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অপশাসন এবং অন্যায় রাজনীতির অবসানের জন্য আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জেল, জুলুম, এবং নানা মাত্রার নিপীড়ন চালিয়ে জনগণের স্বাধীনতা দমনের চেষ্টায় আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছিল। হাজারো জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীকে দমন করার জন্য তারা অক্টোপাসের মতো নিষ্ঠুরতার শিকল পরিয়েছে। দেশব্যাপী এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে মানুষের স্বাধীনতাকে বন্দী করেছিল। আজকের দিনে আমি ’৮২ থেকে ’৯০ সালের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সেই সাথে দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রপ্রেমী নাগরিককে অভিনন্দন জানাই যারা স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।”
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “স্বৈরাচারী এরশাদের দল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দীর্ঘ ষোল বছর ধরে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ধ্বংস করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে তারা ন্যায্য নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এই অপশক্তিকে রুখে দিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই পরাজিত শক্তি আর মাথা তুলতে না পারে, সে জন্য গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”