রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো বেআইনি কাজ করার সুযোগ বা ইচ্ছা নেই। শেখ হাসিনার সরকারের সময় অসংখ্য মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলা গুলো আমরা সহজেই প্রত্যাহার করতে পারিনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন আমরা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা গুলো প্রত্যাহার করছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সব ক্ষমতা নেই, আমরা চাইলেই সব মামলা প্রত্যাহার করতে পারি না। যে মামলা গুলোতে এখনও চার্জশিট হয়নি এবং তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে প্রত্যাহার করা সম্ভব। তবে যেসব মামলায় চার্জশিট হয়ে গেছে, সেগুলো প্রত্যাহারের জন্য পিপির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অথবা আসামি নিজে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুক্তির সুযোগ খুঁজবেন।’
আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন আসিফ নজরুল।
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব মামলায় ইতোমধ্যে সাজা হয়ে গেছে, সেগুলো কেন প্রত্যাহার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও ওঠে। যারা আইন সম্পর্কে একটু ধারণা রাখেন, তারা জানেন, সাজাপ্রাপ্ত মামলাগুলোর ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না, যতই মিথ্যা বা ষড়যন্ত্রমূলক হোক। দণ্ডিত ব্যক্তি আবেদন না করলে আইন মন্ত্রণালয় কিছুই করতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, ভুল হতে পারে, কিন্তু এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, কোনো বেআইনি কাজ করার ইচ্ছা বা সুযোগ আমাদের নেই।’
আইসিটি আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা এখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে আসতে পারবেন। আসামিপক্ষ চাইলে যে কোনো দেশের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হচ্ছিল। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার সরকারি আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে অধিকাংশ আইনজীবী আত্মগোপনে চলে গেছেন বা পালিয়ে গেছেন। ফলে আমাদের নতুন করে জিপি, পিপি এবং অতিরিক্ত পিপি নিয়োগ দিতে হয়েছে। বাইরের কেউ সহজে বুঝতে পারবে না কেন নিয়োগ প্রক্রিয়া এত সময় নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সাড়ে চার হাজার সরকারি আইনজীবী নিয়োগের জন্য আমাদের কাছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এটি যাচাই-বাছাই করতে এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কষ্ট করতে হয়েছে। আজ আমি ঢাকা জেলার প্রায় ৭০০ জন সরকারি আইনজীবীর নিয়োগের ফাইল অনুমোদন করেছি। এখানেও প্রায় ১০ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘কিছু মানুষ মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুনি, ডিমের দাম বেড়েছে, এজন্য আসিফ নজরুলকে দায়ী করা হচ্ছে। একজন ছাত্র চিকিৎসা পাচ্ছে না, সেটাও নাকি আমার বা আইন মন্ত্রণালয়ের দোষ। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করল, সেটাও আমাদের ওপর দোষ চাপানো হয়। অথচ পুলিশের গ্রেপ্তারের সাথে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। মনে হয়, হয়তো আমাদের ওপর মানুষের বেশি প্রত্যাশা, বা আমাকে কেউ কেউ অতিরিক্ত ভালোবাসেন।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আইন দ্বারা নির্ধারিত কাজের বাইরে আমি কিছু করতে পারি না। অন্য মন্ত্রণালয়ের কাজ আমার এখতিয়ারের বাইরে। তবে উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অংশগ্রহণের সময় ইস্যু গুলো নিয়ে আমরা পরামর্শ ও মতামত জানাতে পারি। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপরই থাকে।’
তিন বিচারকের সমন্বয়ে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই মাসেই বিচার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার কোনো অংশই সরকারের অধীনে নেই।’