শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
কোরআন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাজিলকৃত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। যেমন সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর মর্যাদা অনস্বীকার্য, তেমনই পৃথিবীর সকল কথার মধ্যে কোরআনের মর্যাদাও অগণিত। আল্লাহ তাআলা কোরআন সম্পর্কে বলেন,
اِنَّهٗ لَقُرۡاٰنٌ كَرِیۡمٌ فِیۡ كِتٰبٍ مَّكۡنُوۡنٍ لَّا یَمَسُّهٗۤ اِلَّا الۡمُطَهَّرُوۡنَ تَنۡزِیۡلٌ مِّنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ
নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কোরআন, যা রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে, যেখানে শুধু পবিত্র (ফেরেশতাগণ) ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করতে পারে না, তা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে নাজিলিত। (সুরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৮০)
এ থেকে বোঝা যায় যে, প্রতিটি মুমিনের জন্য কোরআনের মর্যাদা অন্তরে স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি, এবং যেন কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর কালাম বা কোরআনকে অসম্মান না করা হয়, সেজন্য সর্বদা সতর্ক থাকা উচিত।
কোরআন তিলাওয়াত করার সময় মনোযোগসহকারে এবং যথাযথ আদবের সাথে তা পাঠ করা উচিত। যেখানে কোরআন তিলাওয়াত হচ্ছে, সেখানে শালীনভাবে চুপ করে মনোযোগ দিয়ে শোনা প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
যখন কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে শুনো, যাতে তোমরা দয়া লাভ করতে পারো। (সুরা আরাফ: ২০৪)
কোরআনের তিলাওয়াত যদি মনোযোগ সহকারে না শোনা হয় বা মাঝপথে থেমে দেওয়া হয়, তা কোরআনের অসম্মান হয়। আল্লাহর কালামের প্রতি এই ধরনের আচরণ বেয়াদবি হিসেবে গণ্য হয়।
মোবাইলের রিংটোন সাধারণত কলের আগমন জানাতে ব্যবহার করা হয়। এর উদ্দেশ্য কেবল কল আসার সংকেত দেওয়া, শোনার জন্য নয়। তাই কোরআন তিলাওয়াত যদি রিংটোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে এটি কোরআনের অসম্মান হিসেবেই গণ্য হয়।
আরও উল্লেখযোগ্য যে, অনেকেই মোবাইল নিয়ে টয়লেট বা অপরিষ্কার জায়গায় যান, যেখানে কোরআনের তিলাওয়াত শোনা হলে তা অপবিত্র স্থান থেকে আসবে। এটি কোরআনের অসম্মান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। এজন্য মোবাইলের রিংটোন হিসেবে কোরআন তিলাওয়াত ব্যবহার করা উচিত নয়।
অনেকে নেক কাজের উদ্দেশ্যে কোরআন তিলাওয়াত রিংটোন হিসেবে ব্যবহার করেন, কিন্তু তারা জানেন না যে, এর ফলে কোরআনের অসম্মান হয়ে যায়, এবং তা গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।