রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
রমজান এলেই সিয়াম সম্পর্কিত নানা মাসআলা ও জিজ্ঞাসা আলোচনায় আসে। দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া, বমি ভাব, মাথা ঘোরা অথবা শারীরিক দুর্বলতার মতো পরিস্থিতি অনেক সময় রোজাদারকে উদ্বিগ্ন করে তোলে—রোজা ভেঙে গেল কি না, কাজা লাগবে কি না। এসব বিষয়ে সমাজে কিছু বিভ্রান্ত ধারণাও চালু আছে। বিশেষত রোজা রেখে মুখভরা বমি হলে রোজা বহাল থাকে নাকি ভেঙে যায়—এই প্রশ্নটি প্রায়ই শোনা যায়।
ইসলামি শরিয়তে রোজা ভঙ্গ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ নির্ধারিত রয়েছে; সব ঘটনা রোজা নষ্ট করে না। অনেক ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ঘটে গেলে শরিয়ত তা মার্জনীয় হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং রোজা সহিহ থাকার সুযোগ রেখেছে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়, যেখান থেকে উলামায়ে কেরাম বিস্তারিত মাসআলা ব্যাখ্যা করেছেন।
অতএব রোজার বিধান সঠিকভাবে জানতে কোরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিষয়গুলো বোঝা জরুরি। রোজা অবস্থায় বমি হলে কোন অবস্থায় রোজা ভাঙবে আর কোন অবস্থায় ভাঙবে না—এ প্রসঙ্গে হাদিসভিত্তিক সঠিক নির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘রোজা অবস্থায় মুখভরা বমি হলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে’—এই ধারণা সঠিক নয়। বরং অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখভরা বমি হলেও রোজা ভাঙে না এবং কাজাও আদায় করতে হয় না। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা অবস্থায় মুখভরা বমি করে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা আদায় করা আবশ্যক।
হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যার অনিচ্ছায় বমি হয়ে যায় তার ওপর কাজা নেই, অর্থাৎ তার রোজা ভাঙে না। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, সে যেন কাজা আদায় করে। (তিরমিজি : ৭২০, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৭৬, মুসতাদরাকে হাকেম : ১৫৫৭)
এ মাসআলা জানলে রোজাদার মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস পেতে পারে সহজেই ইনশাআল্লাহ।