রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের সর্বোত্তম সময় মাহে রমজান। মর্যাদাপূর্ণ এই মাসে ভোরের সাহরি থেকে সন্ধ্যার ইফতার, দিনের রোজা থেকে রাতের তারাবিহ— প্রতিটি ইবাদতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে দোয়া ও ইসতেগফার। কারণ রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, বরং এটি দোয়া কবুলের সময়, গুনাহ মাফের মাস এবং আল্লাহর অশেষ রহমত লাভের সেরা সুযোগ।
এই মাসে মুমিনদের যেসব বিষয়ে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো দোয়া কবুল হওয়া। তাই গণমাধ্যমের পাঠকদের জন্য এখানে বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ইফতারের দোয়া তুলে ধরা হলো।
ইফতারের দোয়া
মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ন্যায়পরায়ণ বাদশা, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং মজলুম ব্যক্তির দোয়া।’ (তিরমিজি :৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ : ১৭৫২)
ইফতারের দোয়া আরবি
اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু।
অর্থ : হে আল্লাহ, আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিকের মাধ্যমে ইফতার করছি।
হজরত মুয়াজ ইবনে যুহরাহ (রা.) আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন, তখন উল্লিখিত দোয়াটি পড়তেন। (আবু দাউদ : ২৩৫৮)
ইফতারের পরের দোয়া
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন-
ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ
বাংলা উচ্চারণ : জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ। (আবু দাউদ : ২৩৫৭)
অর্থ : (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো।
ইফতারের ফজিলত
সারাদিন রোজা পালনের পর রোজাদারের কাছে ইফতারের সময়টি হয়ে ওঠে পরম প্রশান্তির মুহূর্ত। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য রয়েছে দুটি আনন্দ। একটি আনন্দ হলো যখন সে ইফতার করে। আর দ্বিতীয় আনন্দ হলো যখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ (তিরমিজি : ৭৬৬)
রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াব
রোজাদারকে ইফতার করানো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নেক আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তাকে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে এবং রোজাদারের সওয়াব থেকেও কিছু কমানো হবে না।’ (তিরমিজি : ৮০৭)